মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা কি তবে আরও একবার বাজতে চলেছে? পারমাণবিক চুক্তির জট না কাটলে ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযানে নামতে পারে আমেরিকা। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মনোভাবে তেমনই ইঙ্গিত মিলছে। ওমানে দুই দেশের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই পারস্য উপসাগরে সামরিক সক্রিয়তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। এবার দ্বিতীয় রণতরী ‘জেরাল্ড আর ফোর্ড’-কেও পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। সাফ জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন না হলে এই রণতরীর প্রয়োজন পড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্রে খবর, ইরানের অভ্যন্তরে কয়েক সপ্তাহব্যাপী বড়সড় অভিযানের ব্লু-প্রিন্ট ইতিমধ্যেই তৈরি রেখেছে মার্কিন বাহিনী। দুই পদস্থ মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, সেনাকে এমনভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাতে প্রেসিডেন্টের নির্দেশ পাওয়ামাত্রই হামলা শুরু করা যায়। দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় রসদও গোছাতে শুরু করেছে পেন্টাগন। যদিও মার্কিন প্রশাসনের দাবি, তাঁরা এখনও কূটনীতির পথেই সমাধান খুঁজছেন। কিন্তু তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে চেষ্টার কোনও কসুর করছে না ওয়াশিংটন। রণতরী ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’ আগে থেকেই পারস্য উপসাগরে মোতায়েন ছিল। এবার ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ থেকে উড়ে আসছে ‘জেরাল্ড আর ফোর্ড’।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের সংঘাত এবার চরমে পৌঁছেছে। আমেরিকার দাবি, গোপনে পরমাণু বোমা বানাচ্ছে ইরান। তবে তেহরান বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে এসেছে। গত সপ্তাহে ওমানে আয়োজিত দুই দেশের বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এই প্রেক্ষিতে ট্রাম্পের মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, ‘জেরাল্ড শীঘ্রই পশ্চিম এশিয়ার জন্য রওনা দেবে। যদি আমাদের মধ্যে চুক্তি না-হয়, তবে ওই রণতরী দরকার হতে পারে।’ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না আসার বিষয়টি মেনে নিয়ে ট্রাম্প আরও যোগ করেন, ‘ইরানের সঙ্গে চুক্তি কঠিন হচ্ছে। কখনও কখনও ভয় দেখাতে হয়। তা হলেই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যায়।’
সেনার প্রস্তুতি নিয়ে ট্রাম্প নিজে সরাসরি মুখ না খুললেও হোয়াইট হাউস বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়নি। দপ্তরের এক মুখপাত্রের কথায়, ‘ইরানকে নিয়ে সবরকম বিকল্পই খতিয়ে দেখছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যে কোনও বিষয়ে উনি অনেক ধরনের মতামত শোনেন। তার পর আমাদের দেশ এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্তটি নেন।’ এদিকে আমেরিকার এই রণংদেহি মেজাজে বিন্দুমাত্র পিছু হটতে রাজি নয় ইরানও। তেহরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি, কোনও হুমকির কাছে তারা মাথা নত করবে না। পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার যে কোনও পদক্ষেপকে সরাসরি যুদ্ধ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং উপযুক্ত প্রত্যাঘাত করা হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে ইরান। এখন দেখার, এই স্নায়ুযুদ্ধ শেষ পর্যন্ত টেবিল চাপড়ানো আলোচনার স্তরে থাকে নাকি সত্যি রণক্ষেত্রে গড়ায়। ফাইল ফটো।














