Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

ঈশানের ঝড়ে ৬১ রানে জিতে বিশ্বকাপের সুপার এইটে সূর্যোদয়

ঈশানের ঝড়ে ৬১ রানে জিতে বিশ্বকাপের সুপার এইটে সূর্যোদয়

ভারত-পাক ম্যাচে নেই আগের মতো বারুদ। এখন একপেশে ম্যাচ হয়। দিনের শেষে ভারতের জয় হয় দস্তুর। এবার নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের দ্বৈরথের ফলাফল ৮-১। ম্যাচ জিতে ভারত পৌঁছে গেল সুপার এইটে।

ঈশান কিষান ব্যাট হাতে শুরু থেকে ঝড় তুললেন। সেই ঝড়ে একপ্রকার উড়েই গিয়েছিল পাকিস্তান। বাকি কাজ করলেন ভারতের বোলাররা। হার্দিক, বুমরাহ, অক্ষর, বরুণের দাপটে পাকিস্তান ১৮ ওভারেই শেষ হয়ে গেল। ৬১ রানে ম্যাচ জিতে নিল ভারত।

ঈশান ফেরার পরে ম্যাচের দখল নিতে চেয়েছিল পাকিস্তান। ভারতের রান তোলার গতিতে রাশও পড়ে। কিন্তু ১৭৫ রান তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে তাদের ব্যাটিং। সাহিবজাদা ফারহান (০), সাইম আয়ুব (৬), সলমন আলি আঘা (৪), বাবর আজম (৫) এলেন আর গেলেন। চতুর্থ বল থেকে উইকেট পড়া শুরু হল পাকিস্তানের। হার্দিক পাণ্ডিয়া শুরু করেন। বুমরাহ নতুন বল হাতেই ফেরালেন সাইম আয়ুব ও সলমন আঘাকে। উসমান খান কেবল লড়লেন কিছুটা। ম্যাচ অনেক আগেই পাকিস্তানের সাজঘর থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। মিসবা উল হক বলছিলেন, উসমান খান বড় রান করতে পারেন। কিন্তু অক্ষর প্যাটেলের বল অন্ধের মতো এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে নিজের উইকেট ছুড়ে দিয়ে এলেন। সেই সঙ্গে বিপন্ন করলেন পাকিস্তানকেও। বাকিটা কেবল ছিল সময়ের অপেক্ষা।

ভারতের দুর্দান্ত জয়ের পিছনে বড় অবদান ঈশান কিষানের। একসময়ে তিনিই ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটের ‘ব্যাড বয়’। সেই ঈশান কিষান এখন ম্যাচ উইনার। শুরু থেকেই ঝড় তুলতে পারেন তিনি। আর সেই ঝড়ে উড়ে যায় প্রতিপক্ষ।

এদিনও পাক বোলারদের যত্রতত্র ছুড়ে ফেললেন ঈশান কিষান। রকেট গতিতে রান তুললেন। যে পিচে বল পড়ে থমকে এল, সেই পিচে ঈশান কিষান ৪০ বলে ৭৭ রানের ইনিংস খেললেন। যুবরাজ সিংয়ের রেকর্ড ভাঙলেন।

ভারত-পাক  টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তৃতীয় দ্রুততম পঞ্চাশ এল তাঁর ব্যাট থেকে। ২৭ বলে এদিন পঞ্চাশ করেন ঈশান কিষান। যুবি ২৯ বলে পঞ্চাশ করেছিলেন।

একসময়ে ভারতের ৮৮ রানের মধ্যে ঈশান কিষান একাই ৭৭ রান করেছিলেন। এতেই বোঝা যাচ্ছে ঈশান কিষান শুরু থেকেই কীভাবে শাসন করে গিয়েছেন। তিনি ফিরে যেতেই বদলে যায় পরিস্থিতি। শেষ পর্যন্ত ভারত করে ৭ উইকেটে ১৭৫ রান। এই রানও কলম্বোর প্রেমদাসার পিচে পাহাড়-সম।

কলম্বোর পিচে ব্যাট করা যে কঠিন, তা বোঝা গিয়েছিল ঈশান ফিরে যাওয়ার পর। শুরুতেই খাতা না খুলে ফিরে যান অভিষেক শর্মা। লাগাতার দু’ম্যাচে ব্যর্থ হন তিনি। শুরুতেই বাঁ হাতি ওপেনারের উইকেট খোয়ালেও ঈশান কিষান রানের গতি বাড়িয়ে যান।

উসমান তারিককে নিয়ে জোর চর্চা চলছিল। সেই তিনি বল করতে এলেন দশম ওভারে। প্রথম বলেই চার মারলেন ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। ভারতের অনুশীলনে উসমান তারিকের মতো থেমে থেমে বল করতে দেখা গিয়েছিল সূর্যকুমার যাদবকে। পাকিস্তানের রহস্য স্পিনারকে খেলার প্রস্তুতি নিয়েই মহারণে নেমেছিল ভারত। উসমান তারিক কোনও সমস্যাই তৈরি করতে পারেননি। কিন্তু সাইম আয়ুব ভারতকে ঝটকা দেন। সাইম আয়ুব চার ওভার হাত ঘুরিয়ে তিন-তিনটি উইকেট নেন।

বিধ্বংসী ঈশান কিষানকে ফেরান সাইম আযুব। বল বুঝতে না পেরে বোল্ড হন ঈশান কিষান। ড্রিঙ্কস ব্রেকের সময় গৌতম গম্ভীর পরামর্শ দিয়েছিলেন তিলক ভার্মাকে। ভারতের হেডস্যরের পরামর্শ কাজে আসেনি। তিলক ভার্মা (২৫) এলবিডব্লিউ হন সাইম আয়ুবের বলে। হার্দিক পাণ্ডিয়া (০) এসেই শিক্ষানবিশের মতো তুলে মারতে গিয়ে ফিরলেন। সাইম আয়ুবকে হ্যাটট্রিকের সুযোগ করে দিয়েছিলেন তিনিই। শিবম দুবেকে প্রথম বলেই বিভ্রান্ত করে দিয়েছিলেন পাক স্পিনার। আউটের জোরালো আবেদন করতে থাকেন পাক ক্রিকেটাররা। কিন্তু সেই যাত্রায় জীবন ফিরে পান শিবম দুবে। তিনি ১৭ বলে ২৭ রানের ইনিংস খেলেন। যে পিচ মন্থর, চার-ছক্কা মারা কঠিন, সেই পিচে ১৭৫ রানের পাহাড়ে পিষ্ট হয় পাকিস্তান।

READ MORE.....