বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে বৃহস্পতিবার বড় ধাক্কা খেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানিয়ে দিলেন, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় নন, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই বিরোধী দলনেতা থাকছেন। বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুর সিদ্ধান্তে কোনও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেননি আদালত।
প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, বিধানসভা নির্বাচনে ৮০টি আসনে জয় পেয়ে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পায়, এবং দলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম বিরোধী দলনেতা হিসেবে চূড়ান্ত করে ৯ মে স্পিকারকে চিঠি দেন। কিন্তু পরে সেই চিঠিতে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যেই ‘শত্রু শিবিরের’ সঙ্গে গোপন যোগাযোগের অভিযোগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এবং তার দু’দিনের মধ্যেই তৃণমূলের ৫৮ জন বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা চেয়ে স্পিকারকে চিঠি পাঠান।
৩ জুন স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু ৫৬ জন বিধায়কের সশরীর উপস্থিতির ভিত্তিতে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা ও চিফ হুইপ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে শোভনদেব হাইকোর্টে মামলা করেন। শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন, যেমন বহিষ্কারের চিঠি পাওয়ার পরও বহিষ্কৃত ব্যক্তিকে কীভাবে বিরোধী দলনেতা করা হল, এবং জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়ার পরও অন্য পক্ষকে না শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কি না। তবে আদালত এ-ও মন্তব্য করে যে শুধু এফআইআর হয়েছে বলেই কাউকে জালিয়াতি করেছে বলা যায় না।
বৃহস্পতিবার রায়ে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানান, স্পিকারের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার আইনি ভিত্তি পাওয়া যায়নি, এবং তিন সপ্তাহের মধ্যে স্পিকার ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে হলফনামা দিয়ে বক্তব্য জানাতে হবে, তারপর মামলাকারীকে দু’সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে হবে এবং আগামী ২৮ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।














