কলকাতার বাজারগুলির চেহারা বদলাতে এবার পরিকাঠামোগত সংস্কারের পথে হাঁটতে চাইছে রাজ্য সরকার। জল জমা, আবর্জনা এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের পুরনো সমস্যাগুলি সরিয়ে বাজারকে ক্রেতাবান্ধব করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে বুধবার জানান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন বাজার তৈরি করতে চাই, যেখানে মানুষ গিয়ে অন্য রকম একটা অভিজ্ঞতা পাবেন। বাজারে জল জমবে না, আবর্জনা পড়ে থাকবে না।
বাজারগুলির পুরো চেহারাটাই বদলে দেওয়া হবে।’ শুধু বাজার সংস্কারেই থামছে না পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। শহরের যানজট কমাতে পার্কিং ব্যবস্থাতেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অগ্নিমিত্রার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় মোবাইল অ্যাপের সাহায্যে আগে থেকেই পার্কিংয়ের জায়গা বুক করা যাবে।
নির্দিষ্ট পার্কিং এলাকা ছাড়া রাস্তায় গাড়ি রাখলে জরিমানার ব্যবস্থাও আরও কড়া করা হবে। শহরের রাস্তা নিয়েও এ দিন প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। মহালয়ার আগেই খারাপ রাস্তা চিহ্নিত করে মেরামতির কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। কোনও রাস্তা তালিকা থেকে বাদ পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশাসনের নজরে বিষয়টি আনার আবেদন করেছেন তিনি। অর্থাৎ পুজোর আগে বাজারের পাশাপাশি শহরের চলাচলের পরিকাঠামোও ঝালিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য প্রশাসনের। পরিবেশ দূষণ রুখতেও পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন অগ্নিমিত্রা। নিষিদ্ধ কালো প্লাস্টিক তৈরির জায়গাগুলি চিহ্নিত করে উৎপাদন বন্ধ করার কাজ চলছে বলে তাঁর দাবি।
শহর পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি প্লাস্টিক দূষণ কমানোও এই উদ্যোগের লক্ষ্য। বাজার সংস্কার নিয়ে সমাজমাধ্যমে তাঁকে ঘিরে সমালোচনা ও ট্রোলের প্রসঙ্গও এ দিন ওঠে। তার জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘ভালো কাজ অনেকে সহ্য করতে পারে না। বিরোধীদের আর কোনও অস্তিত্ব নেই। তাই শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের ভালো কাজও তাঁরা সহ্য করতে পারছেন না।’ পুর দপ্তরের এই পরিকল্পনার তাৎপর্য শুধু বাজারের সৌন্দর্যায়নে নয়। বাজার, পার্কিং, রাস্তা এবং পরিবেশ—শহরের দৈনন্দিন নাগরিক জীবনের চারটি সমস্যাকে একই পরিকল্পনার মধ্যে এনে পরিষেবার মান বদলানোর লক্ষ্যই এখন সামনে রাখছে সরকার।














