Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

কলকাতার রাস্তার নামকরণে নতুন কমিটি

কলকাতার রাস্তার নামকরণে নতুন কমিটি

শহরের রাস্তার নাম কি শুধু পথ চিনিয়ে দেয়, নাকি বহন করে ইতিহাস ও মানসিকতার উত্তরাধিকার? মঙ্গলবার বিধানসভায় সেই প্রশ্নকেই রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে এলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সুরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তনকে ঘিরে বিতর্কের মাঝেই তিনি ঘোষণা করলেন, রাজ্যের বিভিন্ন রাস্তা ও স্থানের নাম পুনর্মূল্যায়নের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। সেই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন কার্তিক মহারাজ। অধিবেশনে বিরোধী শিবিরের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সুরাবর্দির নাম থাকবে না। কলকাতায় কোনও মুঘল, পাঠান বা অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসকের নামে রাস্তার নাম থাকবে না’।

 

তাঁর বক্তব্য শেষ হতেই শাসক ও বিরোধী বেঞ্চে তুমুল প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেক সদস্য নিজেদের আসন থেকে উঠে প্রতিবাদ ও পাল্টা সওয়াল শুরু করেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, বর্তমান সরকার নামকরণকে কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে না। বরং রাজ্যের সাংস্কৃতিক স্মৃতি ও জাতীয় চেতনার সঙ্গে তার যোগসূত্র খুঁজতে চাইছে। তিনি বলেন, ‘যাঁরা দেশের জন্য কাজ করেছেন, যাঁদের অবদান মানুষকে অনুপ্রাণিত করে, তাঁদের মর্যাদা দেওয়া হবে। কিন্তু বাংলার ঐতিহ্যকে চাপা দিয়ে অন্য কোনও ইতিহাস চাপিয়ে দেওয়া যাবে না’। এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে সুরাবর্দি অ্যাভিনিউ। বিরোধীদের দাবি, ওই রাস্তার নামকরণ অবিভক্ত বাংলার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহিদ সুরাবর্দির নামে নয়, তাঁর বিদ্বান পূর্বপুরুষের স্মৃতিতে হয়েছিল। পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী ইতিহাসের নানা অধ্যায় তুলে ধরে বলেন, নামকরণের প্রশ্নে নতুন করে মূল্যায়ন প্রয়োজন।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্তের তাৎপর্য শুধুমাত্র একটি রাস্তার নাম বদলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ক্ষমতার পরিবর্তনের পরে রাজ্যে ইতিহাসের ব্যাখ্যা ও জনপরিসরের প্রতীকগুলিকে নতুন করে সাজানোর যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, এটি তারই পরবর্তী ধাপ। অর্থাৎ লড়াই এখন শুধু ভোটের নয়, স্মৃতি, পরিচয় এবং ইতিহাসের ব্যাখ্যা নিয়েও। কমিটি গঠনের ঘোষণার মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী কার্যত স্পষ্ট করে দিলেন, আগামী দিনে আরও বহু রাস্তা, মোড় কিংবা এলাকার নাম নিয়ে পুনর্বিবেচনা হতে পারে। ফলে শহরের মানচিত্রে পরিবর্তনের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিতর্কও যে আরও তীব্র হবে, তা বলাই যায়।

READ MORE.....