আদালতের কড়া নির্দেশ সত্ত্বেও কাটছে না জট। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা হিংসার ঘটনায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র হাতে কেস ডায়েরি বা সিডি তুলে দেওয়া নিয়ে টানাপড়েন অব্যাহত। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও সদুত্তর না মেলায় ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। ই-মেল পাঠিয়েও মেলেনি জবাব। এই পরিস্থিতিতে তদন্তের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন।গত ১৬ জানুয়ারি ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল বেলডাঙা।
দেহ গ্রামে ফিরতেই জাতীয় সড়ক অবরোধ থেকে ট্রেন চলাচল স্তব্ধ করে দেওয়া, সব মিলিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। অভিযোগ ওঠে, বাঙালি হওয়ার কারণে বাংলাদেশি সন্দেহে পিটিয়ে মারা হয়েছে ওই যুবককে। যদিও ঝাড়খণ্ড পুলিশ আত্মহত্যার তত্ত্বে অনড়। এই ঘটনায় রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। আক্রান্ত হন মহিলা সাংবাদিক থেকে শুরু করে খোদ পুলিশকর্মীরাও। সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে বিদ্ধ হয় উন্মত্ত জনতা। কলকাতা হাই কোর্টের সবুজ সংকেত মেলার পরেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে তদন্তভার হাতে নেয় এনআইএ।
মঙ্গলবার বিশেষ এনআইএ আদালত সাফ নির্দেশ দিয়েছিল, আগামী ২৬ তারিখের মধ্যে সিডি হস্তান্তর করতে হবে। সেই নির্দেশের পরেই ই-মেল মারফত ডায়েরি চেয়ে পাঠায় কেন্দ্রীয় সংস্থা। কিন্তু বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলা পুলিশের তরফে কোনও প্রত্যুত্তর আসেনি বলেই সূত্রের খবর। আজই এই মামলায় অভিযুক্ত ৩৬ জনের মধ্যে ৩১ জনের আদালতে হাজির হওয়ার কথা। কেন বারংবার নির্দেশ সত্ত্বেও পুলিশ নথি দিচ্ছে না, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিচারকও। আদালতে কেন্দ্রীয় সংস্থার আইনজীবীরা সওয়াল করেন, ‘ পুলিশ যেখানে মার খেয়েছে, পুলিশ আক্রান্ত। সেই মামলার আমরা তদন্ত করছি, তাতে পুলিশ কেস ডায়েরি দিচ্ছে না।
হাইকোর্টের কোনও নির্দেশ আনতে পারেনি। হাইকোর্টে যদি মামলা করে থাকে, তাহলে তো একটা নথি বা অর্ডার নিয়ে আসবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ মেনে আমরা তদন্ত করছি। কেস ডায়েরি তো দিতে হবে আমাদের। ’ পুলিশের দাবি ছিল, প্রথম দিনের বিক্ষোভ স্বতঃস্ফূর্ত হলেও দ্বিতীয় দিনের অশান্তি ছিল পরিকল্পিত। এই ‘পরিকল্পনা’র মূলে কারা, তা জানতেই মরিয়া এনআইএ। অথচ তদন্তের চাবিকাঠি অর্থাৎ কেস ডায়েরি না মেলায় হাত-পা বাঁধা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের। এখন দেখার, আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে পুলিশ পিছু হটে কি না।














