পুলিশ শুধু ইউনিফর্ম পরে না, মানবতাকেও ধারণ করে, তা আরেকবার প্রমাণিত হলো। পশ্চিমবঙ্গের হুগলির গ্রামীণ পুলিশের চন্ডীতলা থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের মানবিকতার ফসল!
অলৌকিক বললেও বোধহয় কম হবে না! চার মাস আগের এক সকাল!
চন্ডিতলা থানার অধীন প্রত্যন্ত গ্রাম হরিপুরের ছোট্ট পরিবার নিয়ে বাস দীপক দাসের। কোলের ছোট্ট শিশুটি ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। কয়েক মাসের শিশু প্রিয়ম দাস জন্মের পর থেকেই লড়ছে এক মারণ ব্যাধির সঙ্গে। Biliary Atresia- একটি জীবন-সংহারী লিভার ডিজিজ।
চিকিৎসকদের একটাই পরামর্শ- লিভার ট্রান্সপ্লান্ট ছাড়া কোনও উপায় নেই। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন লক্ষাধিক টাকা। যা অসহায় দিনমজুর ওই পরিবারের কাছে কার্যত অসম্ভব। স্বভাবতই একজন দিনমজুর পরিবারের কাছে এ যেন আকাশভাঙা বাজ।
কোন উপায় না পেয়ে হতাশাগ্রস্থ পিতা যখন শেষ আশায় চন্ডীতলা থানায় এলেন, তখন ঘটল এক অলৌকিক অধ্যায়ের সূচনা।
চন্ডীতলা থানার অফিসার-ইন-চার্জ, এ খবর শোনার পর নিজেকে থামাতে পারেননি। তিনি শুধু একজন অফিসার নন, একজন মানুষও।
তিনি বলেন, যখন একটা শিশুর জীবন মৃত্যুর মুখে, তখন আমরা শুধু পুলিশ নই, আমরা অভিভাবকও বটে।
এরপর শুরু হল চন্ডীতলা থানার মানবিক অভিযান।
SP হুগলি গ্রামীণ পুলিশের এসপি কামনাশীষ সেনের তত্ত্বাবধানে, থানার অফিসার ও কর্মীরা হাতে হাত মিলিয়ে গড়ে তুললেন এক জীবন বাঁচানোর মিশন।
কেউ দিলেন নিজের বেতনের অংশ, কেউ করলেন জনসংযোগ, কেউ হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল দৌড়ালেন, শুধু একটা লক্ষ্য নিয়ে — ‘প্রিয়মকে সুস্থ ফিরিয়ে আনতে হবে।’
অবশেষে, চেন্নাইয়ের রেইনবো চিলড্রেনস হসপিটালে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন হলো সফলভাবে।
আজ, সেই ছোট্ট প্রিয়ম সুস্থ হয়ে নিজের গ্রামে ফিরে এসেছে।
প্রিয়মের বাবা-মা কৃতজ্ঞতায় ভরা চোখে বলেন, আমরা ভেবেছিলাম আমাদের সন্তানকে হারাবো, কিন্তু ঈশ্বরের দূতরূপে চন্ডীতলা থানার পুলিশ এসে আশার আলো জ্বেলে দিল। আমরা গরিব মানুষ, কিন্তু আজ বুঝলাম, পুলিশ মানে শুধু আইনের রক্ষক নয়, মানবতারও আরেক নাম। আমাদের সন্তানকে নতুন জীবন দিয়েছেন এই থানার পুলিশরা। আমরা সারাজীবন তাঁদের ঋণে বাঁধা রইলাম।















