আগামী ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পরেই শুরু হতে চলেছে এসআইআর শুনানির গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ২০ ডিসেম্বর বা তার কিছু পর থেকেই এই শুনানি শুরু হবে। তবে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং কোনো অবাঞ্ছিত ঘটনা এড়াতে এবার শুনানি কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি রাখার কথা ভাবছে কমিশন। রাজ্যে এসআইআরের প্রথম পর্ব ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। বর্তমানে জমা পড়া ফর্মগুলির আপলোড এবং পরীক্ষার কাজ চলছে।
কমিশন জানিয়েছে, ‘এআই’ (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) নির্ভর প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বিশেষ সফটওয়্যারের সাহায্যে কঠোরভাবে এই ফর্মগুলি স্ক্রুটিনি করা হচ্ছে। এই পরীক্ষার মাধ্যমেই জানা যাবে কোন কোন ভোটারের দেওয়া তথ্যে ‘অসঙ্গতি’ বা ‘ত্রুটি’ রয়েছে। এই অসঙ্গতিযুক্ত ভোটারদেরই শুনানিতে ডাকা হবে। কমিশনের এক আধিকারিক শনিবার জানিয়েছেন, মঙ্গলবার খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর অসঙ্গতিপূর্ণ ভোটারদের কাছে নোটিস পাঠানো শুরু হবে। এর চার থেকে পাঁচ দিনের মাথায় শুনানি পর্ব শুরু হতে পারে। কমিশন সূত্রে খবর, এই শুনানি মাসাধিককাল ধরেও চলতে পারে। কারণ, রাজ্যের ৭.৬৬ কোটিরও বেশি ভোটারের মধ্যে প্রায় ১.৭০ কোটি ফর্মে তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়েছে।
এছাড়া, ইতিমধ্যেই ৫৮ লক্ষেরও বেশি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। শুনানির দায়িত্বে থাকবেন সংশ্লিষ্ট ব্লকের ইআরও (ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার) এবং এইআরও (অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্ট্রোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার)-রা। তাদের পাশাপাশি মাইক্রো অবজার্ভাররাও উপস্থিত থাকবেন। এরপরও সিসিটিভি নজরদারির বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন পড়লে, এইআরও-এর সংখ্যা ৫০ জন পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে বলেও ওই আধিকারিক জানিয়েছেন। এসআইআর সংক্রান্ত এই কড়াকড়ির আবহে ফের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে মালদহে। জেলার হরিশ্চন্দ্রপুরের বালুভোরাট গ্রামে আবুল কালাম (৫২) নামের এক ব্যক্তি এসআইআর আতঙ্কে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পরিবারের।
জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বাবা ও মায়ের নাম বা ভোটার/আধার কার্ডের তথ্য না থাকায় তিনি এসআইআর ফর্ম পূরণ করতে পারেননি। এর ফলে তাঁকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে এই আতঙ্কেই তিনি ভুগছিলেন। অন্যদিকে, এই জেলারই কালিয়াচকের বরকত শেখ নামের এক বিএলএ (বুথ লেভেল অফিসার) এনুমারেশন ফর্মে বাবার নামের বানান ভুল থাকার আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার রাতে মারা যান।
এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি, মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ায় অতিরিক্ত মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে এক মহিলা বিএলও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলার বিষয়টি রাজ্য প্রশাসনের হাতে থাকায়, শুনানি পর্বে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত প্রশাসনই নেবে বলে কমিশনের আধিকারিক জানান।














