রিয়াল মাদ্রিদের নতুন ম্যানেজার জোসে মোরিনহো রসিকতা করে জানিয়েছেন যে, তিনি চান ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে তাঁর ক্লাবের সমস্ত খেলোয়াড় হেরে যাক, যাতে তাঁরা ছুটি কাটিয়ে দ্রুত প্রাক-মরসুম প্রস্তুতির জন্য ক্লাবে ফিরতে পারেন। সম্প্রতি প্রাক্তন ইংরেজ স্ট্রাইকার আদেবায়ো আকিনফেনওয়ার সঙ্গে ‘বিস্ট মোড অন’ নামের একটি পডকাস্টে আলাপচারিতায় তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, চলতি বিশ্বকাপে তিনি ঠিক কোন বিষয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি মুখিয়ে আছেন।
উত্তরে হেসে মোরিনহো বলেন, সত্যটা বলতে গেলে তিনি চান রিয়াল মাদ্রিদের ফুটবলাররা হেরে গিয়ে ছুটিতে যাক, কারণ তিনি তাঁদের দ্রুত প্রাক-মরসুম শিবিরে ফিরে পেতে চান। আগামী ১৩ই জুলাই প্রাক-মরসুম প্রস্তুতি শুরু করতে ভালদেবেবাসে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা পর্তুগিজ এই কোচের। অন্যদিকে, বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৯শে জুলাই। যে সমস্ত খেলোয়াড় প্রতিযোগিতায় যত বেশি দূর এগোবেন, তাঁরা তত বেশি অতিরিক্ত ছুটির সুযোগ পাবেন। এর ফলে ক্লাবের হয়ে প্রস্তুতির সময় অনেকটাই কমে যাবে। আর ঠিক এই কারণেই সম্পূর্ণ নিজস্ব স্বার্থে তিনি এই পরিস্থিতি এড়াতে চাইছেন।
এই মুহূর্তে উত্তর আমেরিকায় রিয়াল মাদ্রিদের মোট ১৩ জন ফুটবলার রয়েছেন। এঁরা হলেন ব্রাজিলের ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও এনড্রিক, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে ও অহেলিয়ান চুয়ামেনি, ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম, জার্মানির আন্টোনিও রুডিগার, বেলজিয়ামের থিবো কুর্তোয়া, উরুগুয়ের ফেদেরিকো ভালভার্দে, অস্ট্রিয়ার দাভিদ আলাবা, তুরস্কের আরদা গুলের, পর্তুগালের বের্নার্দো সিলভা এবং মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজ। এঁদের মধ্যে তুরস্ক নিজেদের বিভাগে একেবারে শেষে শেষ করে ছিটকে যাওয়ায়, একমাত্র গুলেরই আগামী সপ্তাহের নকআউট পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয়েছেন। বাকিদের শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে নামা কার্যত নিশ্চিত। মোরিনহো নিজেও স্বীকার করেছেন যে, চলতি বিশ্বকাপ তিনি সেভাবে উপভোগ করছেন না এবং নকআউট পর্বের উন্নত মানের ম্যাচের জন্য অপেক্ষা করছেন। তাঁর কথায়, কিছু ম্যাচ দশ মিনিট দেখার পরেই তিনি টেলিভিশন বন্ধ করে দিচ্ছেন।
তিনি মনে করেন, বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ স্তরের প্রতিযোগিতায় ৭-১ বা ৫-১ গোলের মতো ফলাফল হওয়া একেবারেই উচিত নয়। ফুটবলের সামাজিক দিকটি তিনি বুঝলেও, খেলার মানের দিক থেকে এমন একপেশে ফলাফল তাঁর একেবারেই না-পসন্দ। নকআউট পর্ব থেকেই তিনি মনোযোগ দিয়ে খেলা দেখবেন বলে জানিয়েছেন। ব্রাজিল বনাম মরক্কো ম্যাচটির প্রশংসা করলেও, মাঝরাত তিনটের সময় জেগে অন্য ম্যাচ দেখার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা তাঁর নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’।














