মালদা জেলার শতাব্দীপ্রাচীন লোকসংস্কৃতি ‘গম্ভীরা’ এবার এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাল। সম্প্রতি পুরাতন মালদায় আয়োজিত এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে গম্ভীরার ঐতিহ্যবাহী মুখোশ তুলে দিয়ে এই শিল্পকে জাতীয় স্তরে বিশেষভাবে সম্মানিত করা হলো। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি মালদার লোকশিল্পের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মালদা সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে জেলাবাসীর পক্ষ থেকে এই বিশেষ উপহারটি প্রদান করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রধানমন্ত্রীর হাতে এই শিল্পনিদর্শনটি তুলে দেন। মঞ্চে এই সময় গম্ভীরার মুখোশ হাতে প্রধানমন্ত্রীকে হাস্যোজ্জ্বল মুখে দেখা যায়, যা উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে।
প্রধানমন্ত্রীকে যে মুখোশটি উপহার দেওয়া হয়েছে, সেটি তৈরি করেছেন পুরাতন মালদার বিশিষ্ট শিল্পী সমরেন্দ্র দে। দীর্ঘকাল ধরে গম্ভীরা শিল্পের প্রসারে নিবেদিতপ্রাণ এই শিল্পীর নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি মুখোশটি মালদার লোকঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর এই সৃষ্টি দেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিত্বের হাতে পৌঁছানোয় শিল্পীমহলে খুশির জোয়ার বয়ে যাচ্ছে।
শুধু উপহার হিসেবেই নয়, প্রধানমন্ত্রীর সভা মঞ্চে গম্ভীরা শিল্পীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। তাঁদের বিশেষ পরিবেশনা অনুষ্ঠানের গাম্ভীর্য ও শ্রী বৃদ্ধি করে। পুরাতন মালদার এই ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প মূলত সামাজিক সচেতনতা এবং ব্যঙ্গাত্মক অভিনয়ের মাধ্যমে জনমানসে বার্তা পৌঁছে দেয়। এদিনের অনুষ্ঠানে গম্ভীরার উপস্থিতি প্রমাণ করল যে, আধুনিকতার যুগেও শিকড়ের এই টান অমলিন।
সাংস্কৃতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, গম্ভীরার এই স্বীকৃতি কেবল একটি মুখোশ হস্তান্তরের বিষয় নয়, বরং এটি মালদার ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে দেশের দরবারে নতুন করে তুলে ধরার একটি প্রয়াস। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিল্পীদের বিশ্বাস, এই ঘটনার মাধ্যমে গম্ভীরা শিল্প আগামীতে আরও বেশি সরকারি ও জাতীয় পৃষ্ঠপোষকতা পাবে।
গম্ভীরা শুধু একটি গান বা নাচ নয়, এটি মালদার প্রাণের স্পন্দন। প্রধানমন্ত্রীর হাতে এই শিল্পের স্বীকৃতি মালদাবাসীর কাছে দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।















