Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

ট্রাম্পের চাপে পড়েই মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি ভারতমাতাকে বিক্রি করেছে মোদী : রাহুল

ট্রাম্পের চাপে পড়েই মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি ভারতমাতাকে বিক্রি করেছে মোদী : রাহুল

শীতকালীন অধিবেশনের পারদ চড়ল বেনজির তপ্ত বাকযুদ্ধে। লোকসভার ফ্লোরে দাঁড়িয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লক্ষ্য করে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর সাফ অভিযোগ, আমেরিকার সঙ্গে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি করতে গিয়ে দেশ ও কৃষকস্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে কার্যত ‘ভারত মাতাকে বিক্রি’ করে দিয়েছে কেন্দ্র। এই চুক্তির ফলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং কোটি কোটি কৃষকের ভবিষ্যৎ এখন চরম ঝুঁকির মুখে বলে দাবি করেছেন রাজীব-তনয়। বুধবার বাজেট অধিবেশনের বিতর্কে অংশ নিয়ে রাহুল বলেন, এই সমঝোতা আদতে ভারতের ‘পাইকারি আত্মসমর্পণ’।

বাজেট বিতর্কের মঞ্চকে হাতিয়ার করে এদিন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে হওয়া ভারতের বাণিজ্যিক সমীকরণ নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন তোলেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদী সরকারের ওপর আমেরিকার প্রচণ্ড চাপ রয়েছে। মার্শাল আর্টের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘অনেক মার্শাল আর্টে প্রতিপক্ষকে পর্যুদস্ত করার কৌশল হল, ঘাড় চেপে শ্বাসরোধ করা।’ রাহুলের দাবি, আমেরিকার সরকার এখন ভারতের ঘাড় চেপে ধরেছে। তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দিকে আঙুল তুলে বলেন, ‘আপনি ভারতকে বিক্রি করে দিয়েছেন। ভারতকে বিক্রি করতে কি আপনাদের লজ্জা করল না? আপনারা আমাদের মা, ভারতমাতাকে বিক্রি করে দিয়েছেন। আমি জানি যে প্রধানমন্ত্রী স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ভারতকে বিক্রি করতেন না। কারণ তাঁর কৃতকর্মের জন্য আমেরিকা আমাদের উপর ক্রমাগত চাপ বাড়িয়ে আসছে।’

বাণিজ্য চুক্তির পরিসংখ্যান তুলে ধরে রাহুল অভিযোগ করেন, এই সমঝোতায় ভারতের লাভ কিছুই হয়নি, বরং ক্ষতি হয়েছে অপূরণীয়। তাঁর কথায়, আগে আমেরিকার শুল্ক ছিল গড়ে ৩ শতাংশ, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ শতাংশে। অন্যদিকে, মার্কিন পণ্যের ওপর ভারতের শুল্ক ১৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আমেরিকার আমদানি ৪৬ বিলিয়ন ডলার থেকে লাফিয়ে ১৪৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিরোধী দলনেতার আক্ষেপ, ‘পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যাচ্ছে বিষয়টি অকল্পনীয়! আমাদের প্রতি আমেরিকার কোনও দায়বদ্ধতা নেই। কিন্তু তাদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। প্রতি বছর আমরা ওদের ১০০ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছি। আর আমরা নির্বোধের মতো দাঁড়িয়ে আছি।’

সবচেয়ে বড় আঘাত আসতে চলেছে ভারতের কৃষি ও জ্বালানি ক্ষেত্রে, এমনই আশঙ্কা রাহুলের। তিনি অভিযোগ করেন, মার্কিন কৃষিপণ্য ও দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য দেশের দরজা খুলে দিয়ে প্রান্তিক চাষিদের জীবিকা বিপন্ন করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তাঁর তীক্ষ্ণ কটাক্ষ, ‘আমেরিকার কৃষি-ব্যবস্থা যাতে আমাদের গরিব কৃষকদের দুমড়ে মুচড়ে নিজেদের উন্নতি করতে পারে, সেই দরজা আপনারা খুলে দিয়েছেন। এটা অসম্মানের। এর আগে কোনও প্রধানমন্ত্রী এরকম করেননি। আপনার পরেও কেউ করবে না।’ জ্বালানি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘আমরা তাদের কথা দিয়ে দিয়েছি যে, ৫০০ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি ও প্রযুক্তি পণ্য আমেরিকা থেকে কিনব।’

বক্তব্যের মাঝেই রাহুল মনে করিয়ে দেন, কেন্দ্রে যদি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ ক্ষমতায় থাকত, তবে সমীকরণের ছবিটা সম্পূর্ণ অন্যরকম হত। ওয়াশিংটনের সামনে মাথা নত না করে দিল্লি কথা বলত সমমর্যাদায়। তিনি বলেন, “ যদি ‘ইন্ডিয়া’ ক্ষমতায় থাকত, তা হলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার সময় দ্বিপাক্ষিক সমমর্যাদার প্রশ্নে আপস করত না। আমরা ট্রাম্পকে বলতাম যে, যদি আপনি এতে প্রবেশাধিকার চান, তা হলে আমাদের সঙ্গে সমমর্যাদায় কথা বলবেন। আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ করবেন না যেন আমরা আপনার দাস । ” রাহুলের মতে, ভারতীয় ‘ডেটা’ বা তথ্যই এখন বিশ্বের সবথেকে বড় সম্পদ, যা রক্ষায় সরকার ব্যর্থ।

এদিন বক্তৃতার সময় বারবার ট্রেজারি বেঞ্চের বাধার মুখে পড়েন রাহুল। প্রাক্তন সেনাপ্রধান এম এম নারাভানের আত্মজীবনী থেকে উদ্ধৃতি দিতে চাইলে গোলমাল চরমে ওঠে। এমনকি ‘এপস্টিন ফাইল’ ও শিল্পপতি অনিল আম্বানির প্রসঙ্গ টেনে আনলে বিজেপি সাংসদরা তুমুল প্রতিবাদ শুরু করেন। কেন্দ্রীয় সংসদীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু রাহুলের বক্তব্যকে ‘মিথ্যার ঝুড়ি’ বলে আখ্যা দিয়ে জানান, তাঁর বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস দেওয়া হবে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীও লোকসভার বাইরে রাহুল গান্ধীর অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

রাহুলের এই আক্রমণ যে আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে, তা স্পষ্ট। বিশেষ করে আমেরিকা থেকে বিশাল অঙ্কের পণ্য কেনার যে শর্তের কথা তিনি সামনে এনেছেন, তা নিয়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে মরিয়া কংগ্রেস। বিরোধী দলনেতার চূড়ান্ত হুঙ্কার, “ আমরা যুদ্ধের যুগে প্রবেশ করছি। ইউক্রেন, গাজ়া থেকে পশ্চিম এশিয়া সর্বত্র অস্থিরতা। এই বিপজ্জনক পৃথিবীতে আমাদের দেশের মূল শক্তি হল আমাদের জনগণ, অথচ তাঁদের স্বার্থকেই বন্ধক রাখা হয়েছে। ” এখন প্রশ্ন,ভারতের সার্বভৌমত্ব এবং অর্থনীতির এই কথিত সংকট নিয়ে রাহুলের এমন জ্বালাময়ী বক্তৃতা কি ২০২৬-এর রাজনৈতিক ময়দানে নতুন কোনও মেরুকরণ ঘটাবে, উত্তরের অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।

READ MORE.....