হরিশ্চন্দ্রপুরে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে। দলের একাংশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে এবার সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূলেরই কিছু স্থানীয় নেতা। তাঁদের দাবি, গোষ্ঠীগত সংঘর্ষে এলাকা জুড়ে আতঙ্ক বেড়েছে, যার প্রভাব পরের বিধানসভা নির্বাচনে পড়তে পারে।
সাম্প্রতিক ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার রাতে স্থানীয় মন্ত্রী তাজমুল হোসেন ও জেলা পরিষদের সদস্য বুলবুল খানের অনুগামীদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে রাতভর তাণ্ডব চলে। থানাও ঘেরাও হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাইরাজ ইসলাম নামে এক তৃণমূল কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এর কয়েকদিন আগেও দলীয় দুই পক্ষের সংঘাতে দোকান-বাজার বন্ধ রাখতে হয় এলাকায়। পুলিশের টহলদারি ও ধরপাকড় চললেও হরিশ্চন্দ্রপুরে শান্তি ফেরেনি।
স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য, তৃণমূল কর্মীরাই এখন নিজেদের সহকর্মীদের হাতে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাঁদের অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী নেতা তৃণমূলের নাম ব্যবহার করে সন্ত্রাস সৃষ্টি করছেন, আর পুলিশ নীরব দর্শক হয়ে রয়েছে। নেতারা মনে করেন, এই অস্থিরতা সাধারণ মানুষের জীবনে অনিরাপত্তা তৈরি করছে। প্রয়োজনে তাঁরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় নামবেন বলেও সতর্ক করেছেন।
দলীয় শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি-র স্থানীয় নেতৃত্বও ঘটনাগুলিতে চিন্তিত। তাঁদের মতে, যারা সংঘর্ষে জড়িত, তারা প্রকৃত তৃণমূল নয়, বরং এলাকার শৃঙ্খলা নষ্ট করছে। সংগঠনের নেতারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনা যায়।
তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ সংঘাতকে হাতিয়ার করে বিজেপি কটাক্ষ করেছে। উত্তর মালদহের সাংগঠনিক জেলার নেতারা মন্তব্য করেছেন, তৃণমূল এখন নিজেই নিজের বিরুদ্ধে লড়ছে, ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে। তাঁদের দাবি, রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের এই গোষ্ঠী সংঘাতই প্রমাণ করছে, দলের ভিত নড়ে গেছে এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনে এর ফল স্পষ্টভাবে দেখা যাবে।















