দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিকেল কলেজে তরুণী ডাক্তারি পড়ুয়ার ধর্ষণ-কাণ্ডের প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। তারই প্রভাবে সোমবার অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে কোচবিহারের তুফানগঞ্জ শহর। বিজেপির ঘোষিত থানামুখী মিছিল ও তৃণমূলের পাল্টা ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রাস্তায় ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে।
সকালে বিজেপির তুফানগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়িকার নেতৃত্বে শতাধিক কর্মী-সমর্থক থানার উদ্দেশে মিছিল শুরু করেন। তাঁদের দাবি, দুর্গাপুরের মতো ঘটনায় রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। প্রশাসন নীরব, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। অপরদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি এই সংবেদনশীল ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাচ্ছে। সকাল থেকেই তৃণমূল কর্মীরা স্টেশন মোড়ে বিজেপি বিধায়িকার দলীয় কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভে বসেন এবং স্লোগান তোলেন— নারী নির্যাতনের নামে রাজনীতি চলবে না।
দু’পক্ষের বিক্ষোভ মুখোমুখি হতেই দ্রুত পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শুরু হয় ধস্তাধস্তি, পরে ইট-পাটকেল ছোঁড়া ও হাতাহাতির ঘটনা। একসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিশাল পুলিশবাহিনী এসে লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে তিনজন বিজেপি ও দুইজন তৃণমূল কর্মী গুরুতরভাবে আহত হন। তাঁদের তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।
বিজেপি বিধায়িকা অভিযোগ করেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে থানায় ডেপুটেশন দিতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। পুলিশ নীরব দর্শক ছিল। অন্যদিকে তৃণমূলের শহর সভাপতি পাল্টা বলেন, বিজেপি ধর্ষণের মতো সংবেদনশীল ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার করেছে। তারাই প্রথমে প্ররোচনা দিয়ে সংঘর্ষ ঘটিয়েছে।
ঘটনার জেরে তুফানগঞ্জের স্টেশন মোড় ও থানা মোড় এলাকায় দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনা ছড়ায়। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়, যান চলাচল স্থগিত থাকে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তুফানগঞ্জ থানার এক আধিকারিক জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয়রা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, মানবিক প্রতিবাদ যদি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সংঘর্ষে পরিণত হয়, তবে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচারই হারিয়ে যাবে। বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংঘর্ষ দুই দলের সম্পর্ক আরও তীব্র করবে, যা তুফানগঞ্জে রাজনৈতিক অস্থিরতার পূর্বাভাস দিচ্ছে।















