পুজোর আগে চুরির প্যাটার্ন চিহ্নিত করে দুষ্কৃতীদের ধরতে কলকাতা পুলিশের প্রতিটি থানা ও গোয়েন্দা বিভাগকে নির্দেশ দিল লালবাজার। কোন এলাকা থেকে আসা চোর কী পদ্ধতিতে অপরাধ করে শহর ছাড়ছে, সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ির নতুন আয়া ও পরিচারক-পরিচারিকা নিয়োগের ক্ষেত্রেও বাসিন্দাদের সতর্ক করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সম্প্রতি অপরাধদমন সংক্রান্ত বৈঠকে পুলিশকর্তারা জানান, শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছিঁচকে চুরি-সহ নানা ধরনের অপরাধের অভিযোগ আসছে। উত্তর ও মধ্য কলকাতার কিছু এলাকায় মন্দিরে চুরির অভিযোগ রয়েছে। দক্ষিণ কলকাতা ও দক্ষিণ শহরতলিতে জানালার কাছে রাখা মোবাইল বা ল্যাপটপ হাতিয়ে নেওয়া, এমনকি রেনপাইপ বেয়ে তিন-চারতলা বাড়িতে উঠে বারান্দা বা ঘরে ঢোকার ঘটনাও ঘটেছে।
দক্ষিণ কলকাতা ও বন্দর এলাকায় দরজার লক ভেঙে চুরির অভিযোগও মিলেছে। পুরনো সামগ্রী বিক্রেতা বা কাগজকুড়ানি সেজে চুরির ঘটনাও নজরে এসেছে পুলিশের।লালবাজারের নির্দেশ, প্রতিটি চুরির ঘটনা আলাদা ভাবে বিশ্লেষণ করে একই ধরনের অপরাধের মধ্যে মিল খুঁজতে হবে। চুরির সময়, এলাকা, পদ্ধতি-সহ বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখে নির্দিষ্ট প্যাটার্ন চিহ্নিত করতে হবে। প্রয়োজনে সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইলের কল ডাম্প বিশ্লেষণ করে একই কায়দায় অপরাধ করা দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করতে হবে। একই পদ্ধতিতে বাইক চুরিও নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা হবে।
এদিকে, গত কয়েক মাসে আয়া ও পরিচারক-পরিচারিকাদের বিরুদ্ধে চুরির একাধিক অভিযোগ এসেছে। তাই আবাসনে বৈঠক করে বাসিন্দাদের সতর্ক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন আয়া বা পরিচারক নিয়োগের পর কলকাতা পুলিশের বন্ধু অ্যাপ-এ তথ্য জানানোর পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। আয়া সেন্টারগুলিকে পরিচয়পত্র সংগ্রহ ও যাচাইয়ের ব্যাপারেও সতর্ক করা হচ্ছে।পুলিশের লক্ষ্য, পুজোর ভিড় শুরুর আগেই চুরির ধরন অনুযায়ী নজরদারি জোরদার করা। প্যাটার্নের সঙ্গে যুক্ত দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা গেলে একই কায়দায় চুরির ঘটনাও কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন পুলিশকর্তারা।














