লুটিয়েন্স দিল্লির ঐতিহ্যবাহী যন্তরমন্তরকে বিক্ষোভ ও আন্দোলনের নির্দিষ্ট স্থান হিসেবে বাতিল (ডি-নোটিফাই) করল দিল্লি পুলিশ। সোমবার জারি করা এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে যন্তরমন্তরের পরিবর্তে প্রতিবাদ সভার জন্য রাজধানীর তিনটি পৃথক এলাকাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন
। নতুন চিহ্নিত তিনটি স্থান হলো—রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং শাহদারার সিবিডি গ্রাউন্ড। এই তিন জায়গায় বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য পৃথক ও বিস্তারিত নির্দেশিকা (এসওপি) শিগগিরই জারি করা হবে। গত জুন মাস থেকে বিভিন্ন যুব সংগঠনের আন্দোলন এবং সম্প্রতি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল যন্তরমন্তর। ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিরোধী দলগুলি ও বিভিন্ন ছাত্র-যুব সংগঠনের ডাকা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি এলাকাটি দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে গত সপ্তাহান্তেই একাধিক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী-সহ বহু আন্দোলনকারীকে আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ।
সেই পরিস্থিতির মাঝেই যন্তরমন্তরে যেকোনো ধরনের জমায়েত ও রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলি। প্রতিবাদকারীদের একাংশের দাবি, স্বৈরাচারী মনোভাবের কারণেই আন্দোলনের কণ্ঠরোধ করতে যন্তরমন্তরকে কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত করার পর বাতিল করা হলো; তবে এতে প্রতিবাদ থামানো যাবে না এবং গোটা দেশই যন্তরমন্তরে পরিণত হবে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশীর আপত্তির খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহেই রাজধানী শহরের এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলেছে।














