হাতে এখনও নির্বাচনী প্রতীক আসেনি, জোটের সমীকরণও এখনও বিশ বাঁও জলে। কিন্তু তাতে কী! ভোটের ময়দানে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ রেজিনগরের বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। নির্বাচন কমিশনের সিলমোহরের অপেক্ষা না করেই মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে নিজের নতুন দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’র (জেইউপি) নামে দেওয়াল লিখন শুরু করে দিলেন তিনি। শাসকদল থেকে শুরু করে বিজেপি বা কংগ্রেস যখন প্রতীক এঁকে প্রার্থীর নাম ফাঁকা রাখছে, সেখানে হুমায়ুনের দেওয়াল উলটপুরাণ দেখছে, প্রার্থীর নাম উজ্জ্বল হলেও প্রতীকের জায়গাটি আপাতত শূন্য। হুমায়ুন স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মুর্শিদাবাদের মাটি থেকেই তিনি রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে চান।
নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিলমোহর না আসায় জেইউপি-র প্রতীকের ঘরটি আপাতত ফাঁকা থাকছে। দলীয় সূত্রে খবর, নারকেল গাছ অথবা টেবিল, এর মধ্যেই কোনও একটি প্রতীক পেতে পারেন তাঁরা। তবে চিহ্নের পরোয়া না করেই কোমর বেঁধে নেমেছে হুমায়ুন শিবির। রেজিনগর ও বেলডাঙা, এই দুই কেন্দ্র থেকেই লড়ার ঘোষণা করেছেন তিনি। অনুগামীদের দাবি, ‘রেজিনগর আমাদের হোম গ্রাউন্ড। বাংলার মানুষের জেনে রাখা ভালো, রেজিনগরে আমরা ওয়াকওভার পেয়ে গিয়েছি।’ যদিও এই আত্মবিশ্বাসকে দিবাস্বপ্ন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন রেজিনগরের তৃণমূল বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরী। পালটা কটাক্ষ ছুড়ে তিনি বলেন, ‘স্বপ্নে পোলাও রাঁধলে ঘি ঢালতে কেউ কার্পণ্য করবে না। যত পারে ঘি ঢালুক। সময় বলবে কে জিতবে।’
কখনও বাবরি মসজিদ ইস্যু, আবার কখনও আইএসএফ বা মিমের সঙ্গে জোটের জল্পনা, সব মিলিয়ে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে দীর্ঘক্ষণ উত্তাপ জিইয়ে রেখেছিলেন হুমায়ুন। মিমের সঙ্গে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হলেও আইএসএফ বা বামেদের সঙ্গে জোট নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। জোটসঙ্গীদের জন্য ২৮ ডিসেম্বর সময়সীমা বেঁধে দিলেও বড় কোনও ঘোষণা আসেনি। প্রথমে ১৮৫টি আসনে লড়ার কথা বললেও পরে বাবরি মসজিদের শিলান্যাস মঞ্চ থেকে ২৯৪টি আসনেই প্রার্থী দেওয়ার হুঙ্কার দিয়েছিলেন তিনি। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, সেই ঝোড়ো হাওয়ার গতি এখন অনেকটাই স্তিমিত। প্রশাসনের চাপে বা অন্য কোনও কারণে এসপি অফিস ও বেলডাঙা থানা ঘেরাওয়ের কর্মসূচি থেকে পিছিয়ে আসায় তাঁর শক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা।
মুর্শিদাবাদ জেলায় শাসকদল তৃণমূল থেকে শুরু করে বিজেপি বা কংগ্রেস, ইতিমধ্যেই দেওয়াল দখলের লড়াইয়ে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে। বামেরা কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও হুমায়ুন কবীর সময় নষ্ট করতে রাজি নন। প্রতীক ছাড়া দেওয়াল লিখন জেলায় এক অভিনব রাজনৈতিক আবহাওয়া তৈরি করেছে। জেলা জেইউপি-র আহ্বায়ক মনিরুল ইসলামের হুঙ্কার, ‘তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যন্ত্রণার জায়গা হবে মুর্শিদাবাদ।’ এখন দেখার, ভোটের ময়দানে প্রতীক আসার আগেই শুরু হওয়া এই প্রচার শেষ পর্যন্ত ভোটের বাক্সে কতটা প্রতিফলন ঘটাতে পারে।















