Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

বন্যার ভেসে আসা কাঠই দিশা দেখাচ্ছে কৃষকদের

বন্যার ভেসে আসা কাঠই দিশা দেখাচ্ছে কৃষকদের

কুমারগ্রাম ব্লকের বিত্তিবাড়ি, ধনতলি, জয়দেবপুর টাপু, কাটাবাড়ি, মুসলিমচর ও মাঝেরডাবরির বিষ্ণুনগর কলোনিতে বন্যার জলে চাষের জমি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলের তোড়ে ভেসে আসা পলি খেতে চাপা পড়ায় কৃষিকাজ বন্ধ হয়ে গেছে। বহু পরিবারের ঘরবাড়ি, উঠোন, রাস্তাঘাটেও এখনও দুর্যোগের চিহ্ন স্পষ্ট।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক দেবকি মণ্ডল জানান, তাঁদের প্রায় ৪ বিঘা জমিতে পলির আস্তরণ জমে রয়েছে। রতন মণ্ডল, গোলাপি সরকার, উত্তম সরকার, দুলাল বিশ্বাস, নৃপেন সরকারসহ আরও অনেকের ক্ষেতের অবস্থা অনুরূপ। পলি ও ভেসে আসা কাঠ সরিয়ে চাষ শুরু করা কবে সম্ভব হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

এমন পরিস্থিতিতে কৃষকরা নতুন উপার্জনের দিশা খুঁজছেন। ভেসে আসা কাঠ কুড়াল দিয়ে কেটে জ্বালানি হিসেবে বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। স্থানীয় কৃষক চিত্তরঞ্জন সরকার বলেন, বন্যা না হলে এ সময়ে ফুল, বাঁধাকপি, আলু, লংকা, টমেটো, বেগুন, মিষ্টি কুমড়ো, মুলা সহ রকমারি শাকসবজি চাষ শুরু হয়ে যেত। বিঘা প্রতি প্রথম বাজারে ৪০-৫০ হাজার টাকা উপার্জন সম্ভব হতো। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেছে। এখন পেটের ভাত জোগাড়ে ভেসে আসা কাঠ কেটে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছি।

অপর কৃষক উজ্জ্বল সরকার যোগ করেন, জ্বালানি কাঠ বিক্রি করে সংসার চালাতে হচ্ছে। অন্য কোনো বিকল্প আয়ের উৎস নেই। ঘরবাড়ি, পরিবার ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে কাজ করতেও পারছি না। ৩-৪ ফুট পলির তলায় খেত চাপা পড়েছে। কবে, কীভাবে পলি সরিয়ে জমি চাষযোগ্য হবে, তা বোঝা যাচ্ছে না।

বন্যার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এখন চাষের ক্ষতি কাটিয়ে পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফেরার উপায় খুঁজছেন, আর সেই সময়ে ভেসে আসা কাঠই তাদের একমাত্র জীবিকার মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

READ MORE.....