বাম শিবিরের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক ছিন্ন করে মাত্র চব্বিশ ঘণ্টা আগে ঘাসফুল শিবিরে নাম লিখিয়েছেন যুব নেতা প্রতীক উর রহমান। তাঁর এই ভোলবদল নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, ঠিক তখনই তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
প্রতীকের দলবদলকে কার্যত গুরুত্বহীন প্রতিপন্ন করে সেলিমের দাবি, বামপন্থীরা যাকে যোগ্য সম্মান দিয়ে বড় মঞ্চ দিয়েছিল, তৃণমূল তাঁকে প্রথম দিনেই রাস্তায় নামিয়ে এনেছে। সেলিমের ভবিষ্যদ্বাণী, প্রতীক উরকে এক সপ্তাহের মধ্যেই ভুলে যাবে শাসকদল। রবিবার সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির রাজ্য কমিটির একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে মেজাজি মেজাজেই ধরা দেন সেলিম। প্রতীক উরের যোগদান নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি চাঁচাছোলা ভাষায় বলেন, ‘বামপন্থীতে বিকাও একজন। বাকিরা টিকাও।’ মূলত আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতীকের পতাকা হাতে নেওয়ার দৃশ্যটিকেই হাতিয়ার করেছেন তিনি।
এই প্রসঙ্গেই সেলিমের শ্লেষাত্মক উক্তি, ‘আমরা যুবদের মঞ্চ দিই। আমরা যাকে মঞ্চ দিয়েছিলাম, তাঁকে প্রথম দিনই রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে।’ দলবদলু নেতার অতীত মনে করিয়ে দিয়ে সেলিমের ব্যাখ্যা, তৃণমূলের কৌশল অত্যন্ত চেনা। তাঁর অভিযোগ, শাসকদল প্রথমে বিরোধীদের মারে। তাতেও যদি কারও শিরদাঁড়া সোজা থাকে, তবে তাঁকে লোভ দেখানো হয়। আর তাতেও কাজ না হলে কৌশলে বলা হয় যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আসলে তাঁদেরই লোক। প্রতীকের ক্ষেত্রেও একই চিত্রনাট্য কাজ করেছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। সেলিম স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘আমি জানি, যারা তাঁকে কিনেছে, এক সপ্তাহে ভুলে যাবে।’
উল্লেখ্য, প্রতীকের বিদায়ে সিপিএম যে একেবারে হাত গুটিয়ে বসে ছিল না, সেই তথ্যও এখন প্রকাশ্যে। জানা গিয়েছে, ক্ষোভ উগরে দেওয়ার পর বর্ষীয়ান নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। খোদ মহম্মদ সেলিম এবং সুজন চক্রবর্তীও বারবার ফোন করেছিলেন প্রতীক উরকে। এমনকি শেষ মুহূর্তে ফোন করেছিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুও। কিন্তু শীর্ষ নেতৃত্বের সমস্ত অনুনয় উপেক্ষা করেই শেষ পর্যন্ত অভিষেকের হাত থেকে জোড়াফুলের পতাকা তুলে নেন তিনি। প্রতীকের এই সিদ্ধান্তে আদতে কার লাভ হবে, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।















