তৃণমূল কংগ্রেসের একসময়ের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ ও প্রভাবশালী সংগঠক মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমেছে রাজ্য রাজনীতিতে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সংগঠন গড়ে তোলা ও নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করছেন দলীয় নেতারা। বীরভূম জেলার রাজনীতিতেও পরিবর্তনের পদধূলি পড়েছিল মুকুল রায়ের। মুকুল রায়ের একদা রাজনৈতিক সংগীত বীরভূমের কেষ্ট বোলপুরে বসেই চোখের জলে শেষ বিদায় জানালেন। সংবাদ মাধ্যমের কাছে মুকুল রায় কে নিয়ে নানান স্মৃতি তুলে ধরলেন তিনি। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাকালীন পর্বে মুকুল রায় ছিলেন অন্যতম মুখ্য সংগঠক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিনের শাসক বামফ্রন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করার লড়াইয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলী ভূমিকা পালন করেছিলেন। দলীয় মহলে তাঁকে ‘চাণক্য’ বলেও অভিহিত করা হত। বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল শোকাহত কণ্ঠে বলেন, ‘মুকুলদা তৃণমূল দলের জন্য অনেক কিছু করেছেন। আমরা একসঙ্গেই কংগ্রেস থেকে দল করেছি। আজ সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ছে’। তিনি আরও জানান, ‘মুকুলদা ছিলেন দিদির ডান হাত। পশ্চিমবঙ্গ থেকে বামফ্রন্টকে হটানোর পেছনে মুকুল রায়ই ছিলেন মূল পাণ্ডা।
তাঁর অবদান অস্বীকার করা যায় না। খুব কষ্ট পেয়েছি। আজ মনটা ভীষণ খারাপ’। মুকুল রায়ের বিজেপিতে যোগদানের প্রসঙ্গ টেনে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, ‘আমি একদিন ওঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তুমি কেন বিজেপিতে গেলে? তখন আমার খুব কষ্ট লেগেছিল। পরে তৃণমূলে ফিরেও আমার সঙ্গে দেখা করেছে মুকুলদা’। ১৯৮০ সাল থেকে দুই নেতার দীর্ঘ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, এত বছরের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্মৃতি আজ একসঙ্গে মনে ভিড় করছে। একসময় যিনি মমতা ব্যানার্জির অন্যতম ভরসাযোগ্য সহযোগী ছিলেন, তাঁর প্রয়াণে তৃণমূল কংগ্রেস এক প্রভাবশালী সংগঠককে হারাল। রাজনৈতিক মহলের মতে, তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও কৌশলী নেতৃত্ব দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।















