মন্থা’র প্রভাবে উত্তরবঙ্গে ফের দুর্যোগের ঘনঘটা, লাগাতার বৃষ্টিতে নদীগুলির জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভুটানের জলে শিসামারা নদীর নির্মীয়মাণ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় আলিপুরদুয়ার ১ ব্লকের শালকুমার ১ ও শালকুমার ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ২০০-২৫০ পরিবার বাড়ি ছেড়ে স্থানীয় লাল্টুরাম হাইস্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে এবং গবাদি পশু উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কায় বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর ও জেলা পরিষদ নজর রাখছে, এবং নিচু এলাকা থেকে মানুষদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য মাইকিং শুরু হয়েছে।
এর আগে ৫ অক্টোবরের বিপর্যয়েও এই এলাকাগুলিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এদিকে, বীরপাড়ার ৪৮ নম্বর এশিয়ান হাইওয়েতে বীরপাড়া গেরগান্ডা ব্রিজের অ্যাপ্রোচ রোডে ধস নামায় উত্তর-পূর্ব ভারত ও ভুটান থেকে শিলিগুড়ি যাওয়ার পথে যানচলাচলে ব্যাপক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
বৃষ্টিতে জলপাইগুড়িও বিপর্যস্ত; ১৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে এবং নদী ফুঁসছে। তিস্তা ব্যারেজ থেকে জল ছাড়া শুরু হওয়ায় তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। সেচদপ্তরের কর্মীরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। শৈলশহর দার্জিলিংয়েও বৃষ্টি চলছে, ঘন কুয়াশায় দৃশ্যমানতা কম।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। রবিবার উত্তরবঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলবে, এবং সোমবার থেকে আবহাওয়া বদলের সম্ভাবনা রয়েছে।














