দলীয় কমিটি ভাঙন থেকে নাম-প্রতীক নিয়ে সঙ্কট রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলকে ঘিরে এমনই এক পালাবদলের ছবি তুলে ধরেছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন। বিধানসভা নির্বাচনে ৮০টি আসন পাওয়ার পর থেকেই দলের অন্দরে অসন্তোষ, ভাঙন এবং নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়তে থাকে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি। শেষ পর্যন্ত দলীয় নাম ও জোড়া ফুল প্রতীক নিয়েও তৈরি হয়েছে সঙ্কট।
একসময়ের ঘনিষ্ঠ নেতাদের একাংশই এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে নতুন শিবির গড়ে তুলেছেন।এই আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর বক্তব্য, ক্ষমতার কঠিন সময়ে যাঁরা মমতার সঙ্গ ছেড়েছেন, তাঁদের অবস্থান প্রশ্নের মুখে। অগ্নিমিত্রার কথায়, যেখানে সুবিধা পাব, সেখানেই চলে যাব?
তিনি আরও বলেন, তৃণমূল এত দ্রুত শেষ হয়ে যাবে, তা ভাবেননি। তাঁর মতে, রাজনীতিতে ঔদ্ধত্য, নিজেকে সর্বোত্তম মনে করা এবং মানুষকে সম্মান না দেওয়ার পরিণতি থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।মমতার রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা বলেন, তাঁর সংগ্রাম অস্বীকার করা যায় না। একইসঙ্গে ক্ষমতা হারানোর সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গত্যাগের ঘটনাকেও তিনি শিক্ষণীয় বলে মন্তব্য করেন। প্রশ্ন তোলেন, লয়্যালটি কোথায় গেল রাজনীতিতে?অন্যদিকে, গণতান্ত্রিক তৃণমূলের প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা প্রশ্ন করেন, মন্ত্রী কেন তৃণমূল ও মমতাকে নিয়ে চিন্তিত। তাঁর দাবি, মমতা একসময় বাজপেয়ী সরকারের মন্ত্রী ছিলেন, পরে ইউপিএ-তে যোগ দেন।
অন্যদিকে মমতা তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ইতিহাস কোনওদিন বেইমানদের ক্ষমা করে না।তাঁর বক্তব্যে, দলবদলের রাজনীতিতে ব্যক্তিগত স্বার্থ ও রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রশ্নটি ফের সামনে এসেছে। তবে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ, দলীয় সংগঠন এবং নাম-প্রতীকের আইনি অবস্থান নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রক্রিয়ার উপরই নির্ভর করবে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যেই রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জল্পনা তীব্র হয়েছে। মমতার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা এবং দলের বর্তমান টানাপোড়েন তাই ফের আলোচনার কেন্দ্রে এখন।















