Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ মার্কিন বিদেশসচিব

মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ মার্কিন বিদেশসচিব

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ভারত আজ ক্রমশ এক বিশ্বশক্তিতে পরিণত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক স্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে এখন ভারতের ভূমিকা অনস্বীকার্য। হোয়াইট হাউসে সংবাদসংস্থা আইএএনএস-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ঠিক এই ভাষাতেই ভারতের ভূয়সী প্রশংসা করলেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন ভারতকে তাদের অন্যতম প্রধান কৌশলগত সহযোগী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবেই বিবেচনা করে।

 

সাক্ষাৎকারে মার্কিন বিদেশসচিব জানান, মোদীর নেতৃত্বে ভারত অর্থনৈতিক দিক থেকে অবিশ্বাস্য অগ্রগতি লাভ করেছে। বিশ্বমঞ্চে ভারতের এই শক্তিশালী হয়ে ওঠার পুরো কৃতিত্বই তিনি দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। রুবিও বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং তাঁর কাজের বিরাট বড় অনুরাগী’।

 

ভারত-মার্কিন সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি জানান, জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত রসায়ন রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে ভীষণ জরুরি। আগামী বছরের শুরুর দিকেই ট্রাম্প ভারত সফরে আসতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে একটি বহু প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তিও একেবারে চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন রুবিও। চলতি বছরের শেষেই পরবর্তী কোয়াড বৈঠকে দুই দেশ ফের একযোগে কাজ করবে বলেও তিনি আশাবাদী। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতির জেরে ভারতের জ্বালানি চাহিদায় যে প্রভাব পড়েছে, তা নিয়েও মুখ খোলেন মার্কিন বিদেশসচিব।

 

তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ধরেই ভারত তাদের জ্বালানির উৎসকে বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, আর আমেরিকা এই উদ্যোগে সম্পূর্ণ পাশে থাকতে আগ্রহী। রুবিওর মতে, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য জ্বালানি সরবরাহে বৈচিত্র্য আনাই সবচেয়ে জরুরি। শুধু আমেরিকা নয়, ভেনেজুয়েলার মতো দেশের সঙ্গেও ভারত এই বিষয়ে কাজ করছে। মার্কিন বিদেশসচিব বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ভেনেজুয়েলায় উৎপাদিত ভারী অপরিশোধিত তেল (হেভি ক্রুড) শোধন করার মতো উন্নত প্রযুক্তি বিশ্বের খুব কম দেশেরই রয়েছে, যার মধ্যে ভারত অন্যতম। এই ক্ষেত্রে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে আমেরিকাও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।ভারত এবং আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়েও অত্যন্ত আশাবাদী রুবিও।

 

বিশ্বের বৃহত্তম এবং প্রাচীনতম গণতন্ত্রের মধ্যে এই মেলবন্ধনকে ‘অসাধারণ’ আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, অর্থনীতি, জোগান শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেন), গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, জ্বালানি, নিরাপত্তা এবং অবাধ সামুদ্রিক চলাচলের মতো একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশের স্বার্থ মিলে যায়। এই বিষয়গুলিই আগামী দিনে দুই দেশের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে। পরিশেষে, আমেরিকায় বসবাসকারী অনাবাসী ভারতীয়দেরও (ইন্ডিয়ান-আমেরিকান) প্রশংসা করেন রুবিও। তিনি অকপটে স্বীকার করে নেন যে, দুই দেশের মধ্যে এই সম্প্রদায় এক গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধনের কাজ করছে এবং আমেরিকার সার্বিক উন্নতিতে তাঁদের বিরাট অবদান রয়েছে।

READ MORE.....