আবারও বীরভূমের রামপুরহাট ক্ষোভে ফেটে পড়েছে এক নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে। বারোমেশিয়া গ্রামের স্কুলপড়ুয়া আদিবাসী নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে জেলাজুড়ে। বৃহস্পতিবার এই ঘটনার প্রতিবাদে রামপুরহাট কলেজ মাঠ থেকে বিশাল মহামিছিলের আয়োজন করে আদিবাসী সংগঠন কুইডিমিরু জাস্টিস কমিটি সকালে থেকেই কলেজ মাঠে জমতে থাকে হাজারো মানুষ । প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি আদিবাসী নারী-পুরুষ অংশ নেন এই মিছিলে। তাদের হাতে ছিল ঐতিহ্যবাহী অস্ত্র ,তরোয়াল, তীর-ধনুক, কাটারি ও কুড়োল।
মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক পরিক্রমা করে রামপুরহাটের পাঁচমাথা মোড়ে এসে শেষ হয়।
পাঁচমাথা মোড়ে অনুষ্ঠিত হয় এক পথসভা, যেখানে বক্তারা অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষকের অবিলম্বে ফাঁসির দাবিতে সরব হন। তাদের বক্তব্য , একজন শিক্ষক, যিনি সমাজের পথপ্রদর্শক হওয়ার কথা, তিনিই যদি নাবালিকা ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুন করেন, তবে তার একটাই শাস্তি ফাঁসি।
মিছিল চলাকালীন প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে রামপুরহাট শহরের ট্রাফিক সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকে। শহরজুড়ে প্রতিধ্বনিত হয় একটাই স্লোগান আমাদের মেয়ের বিচার চাই! অপরাধীর ফাঁসি চাই!আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন ন্যায়বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। এটা শুধু এক কন্যার জন্য নয়, সমগ্র আদিবাসী সমাজের সম্মানের লড়াই। রামপুরহাটের রাস্তায় আজ দেখা গেল ঐক্যের জোয়ার, ন্যায়ের দাবি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিবাদ। এই মহামিছিল প্রমাণ করল ন্যায়ের দাবিতে আদিবাসী সমাজ আজ একতাবদ্ধ।














