স্বচ্ছ ভোটার তালিকা ছাড়া বাংলায় ভোট করানো যাবে না। নির্বাচন কমিশনকে এই ভাষাতেই কার্যত চরম বার্তা দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি সাফ জানান, এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না করে এবং জমা পড়া প্রতিটি অভিযোগের নিষ্পত্তি না করে ভোটের ময়দানে নামা সম্ভব নয়। শমীকের কথায়, ‘আমরা প্রস্তুত, তবে নো এসআইআর, নো ভোট।’ বিজেপি সভাপতির এই মন্তব্যে ভোটমুখী বাংলায় রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় অনেকটাই চড়ে গেল।
নির্বাচন কমিশনের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা। কিন্তু শমীকের অভিযোগ, ভিনরাজ্যে এই কাজ মিটে গেলেও পশ্চিমবঙ্গ এখনও অনেক পিছিয়ে। তাঁর দাবি, জমা পড়া বহু আবেদন ও অভিযোগ এখনও ঝুলে রয়েছে। বিজেপি সভাপতির অভিযোগ, প্রশাসনের রাজনীতিকরণের ফলে এই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘অবিজেপি শাসিত রাজ্য কেরল ও তামিলনাড়ুতেও এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। কোথাও কোনও সমস্যা হয়নি। ভাঙচুর হয়নি। যত সমস্যা বাংলায়। বিচারকরাও এখন আতঙ্কে।’ তাঁর দাবি, সব রাজনৈতিক দলের জমা দেওয়া ফর্মের শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়া জারি রাখতে হবে।
রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শমীক ভট্টাচার্য সরাসরি বিঁধেছেন তৃণমূল সরকারকে। তিনি জানান, বাম আমলের সমস্ত উদাহরণ ছাপিয়ে গিয়েছে বর্তমান পরিস্থিতি। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের বা মুর্শিদাবাদের মতো এলাকায় ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে শাসকদলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির নাম ব্যবহার করে ভুয়ো ফর্ম পূরণ করে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে। শমীকের দাবি, ‘বিজেপির বিএলএ-২’র নামে ফর্ম সেভেন ফর্ম পূরণ করা হচ্ছে। সই নকল করা হচ্ছে। বয়স্ক মানুষদের এর জন্য শুনানিতে যেতে হচ্ছে। ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে এটা দেখা গিয়েছে।’
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ফের বাংলায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন শমীক। মুর্শিদাবাদের ডোমকলের মতো সংবেদনশীল এলাকায় গিয়ে কমিশনের কাজ সরেজমিনে দেখার অনুরোধ করেছেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট দাবি, ‘আমাদের যে ফ্রম সেভেন জমা দেওয়া হয়েছে, যেগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সবগুলোকে গ্রহণ করতে হবে। শুধু আমাদের নয়, সব রাজনৈতিক দলের। তাতে যতদিন লাগে লাগুক।’ ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা তৈরির দায়িত্ব পালনে কমিশন যাতে কোনও আপস না করে, মঙ্গলবার সেটাই ছিল শমীকের মূল সুর। ফাইল ফটো।














