পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ক্ষীরপাই পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছেন কংক্রিটের তৈরি ৪৫ ফুট উচ্চতার বিশাল আকার কালি প্রতিমা যা ভক্তদের কাছে বড় নামে পরিচিত। এবছর বড়মার পুজো ২৫ বছরে পড়বে, শুধু চন্দ্রকোনা নয়, জেলা ছাড়িয়ে ভিন জেলা এমনকি ভিন রাজ্যের মানুষও এই কালী মাকে বড় মা নামে জানে, অপেক্ষায় থাকে অগণিত মানুষ। পুজোর সময় স্থানীয় আশপাশের মানুষ ছাড়াও জেলা ভিম জেলার দূর দূরান্তের মানুষেরা ভিড় জমায়। ক্ষীরপাই বড়মার পুজোয় বলি হয় না। সমস্ত রীতি মেনেই এখানে পূজো হয়। পূজোর পরের দিন হাজার হাজার মানুষ আসে মায়ের খিচুড়ি, প্রসাদ খাওয়ার জন্য। ২৪ বছর আগে শ্মশানের ওপর বড় মায়ের মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা শুদ্ধদেব রায়।
বড় মায়ের মন্দির চত্বরে বিজ্ঞাপন দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে কোন রকম দক্ষিণা লাগে না, মন্দিরে কোন প্রণামী বাক্সের ঠাঁই নেই, আর্থিক সাহায্য করা বা দক্ষিণা হিসেবে কোন পয়সা দেওয়া যাবে না মন্দিরে। প্রথমে মাটির চালায় প্রতিমা তৈরি করে পুজো শুরু করেন প্রতিষ্ঠাতা শুদ্ধদেব রায়, যাকে ছোট মা নামেই ডাকা হয়। তবে বন্যা কবলিত এলাকা হওয়ায় একবার বন্যায় ছোট মায়ের মাটির চালা ডুবে গিয়ে মূর্তি ভেঙে যায়,যদিও মায়ের একটি ভাঙা হাত রয়ে গিয়েছিল যা এবারের বন্যায় তলিয়ে যায়। বন্যা মিটতেই ছোট মায়ের মন্দিরের সঙ্গে মূর্তি তৈরির কাজ চলছে জোরকদমে। ছোট মায়ের পাশেই ৪৫ ফুট উচ্চতার কংক্রীটের মায়ের মূর্তি রয়েছে।
যা জেলা কেন, রাজ্যে ও এতো বড় মাপের কালী প্রতিমা নেই বলেই মত প্রতিষ্ঠাতা থেকে অগনিত ভক্তদেরও। সবার কাছেই তা ক্ষীরপাই বড়মা নামেই পরিচিত। অমবস্যা তিথি ও কালীপুজোর সময় ছাড়া বড়মায়ের মন্দিরে থাকেনা কোনও পূজারী। তিথির সময় ছাড়াও প্রতিদিন বিভিন্ন প্রান্তের অগনিত মানুষ মায়ের দর্শনে আসেন। তারা নিজেরাই নিজের মতো করে মায়ের পুজো দিতে পারে পুরোহিত ছাড়াই।ভক্তদের হাতেই ছেড়ে দেওয়া হয় মন্দিরের পুজো অর্চনার কাজ। যে যার নিজের মতো করে নিজে হাতে পুজো দেয় বড়মাকে। আর এজন্যই প্রতিদিন অসংখ্য ভক্তের সমাগম লেগেই থাকে।















