বছর ঘুরলেই বাংলায় বিধানসভার নির্বাচন। তার আগে বিভিন্ন ইস্যুকে সামনে রেখে রাজ্য জুড়ে দলীয় সংগঠন শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনসংযোগের জন্য এবারে সরকার বল্লভ ভাই প্যাটেলের জন্ম জয়ন্তীকে বেছে নিল বিজেপি। বাংলা জুড়ে সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেলের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে একতা যাত্রা বের করল বঙ্গ বিজেপি। বীরভূমে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিশাল জনসমাগম হয় একতা যাত্রা উপলক্ষে। রাজ্যের কোনও বৈধ ভোটারকে এনিউমারেশন ফর্ম থেকে বঞ্চিত করা যাবে না বলে দাবি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।
এই জন্য রাজ্য নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট হেল্পলাইন চালু করার উচিত বলেও মনে করছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। রাজ্যের কিছু কিছু এলাকায় বৈধ ভোটারদের এনিউমারেশন ফর্ম দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ শুভেন্দুর। কয়েকজন বিডিও কিংবা বিএলও–র দায়িত্বে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের জন্যই ফর্ম অনেকে পাচ্ছেন না বলে দাবি বিরোধী দলনেতার। ‘সার’ প্রক্রিয়া শেষ হলে মৃত ভোটার, ডাবল এন্ট্রি, ভুয়ো এবং বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী মিলিয়ে অন্তত এক কোটি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে বলে এ দিন ফের শুভেন্দু দাবি করেছেন। অতীতেও শান্তনু ঠাকুর, শুভেন্দু–সহ বিজেপি নেতারা এই দাবি করেছেন। কিন্তু এ দিন শুভেন্দু প্রথম অভিযোগ করেছেন, অনেক জায়গায় বৈধ ভোটাররা এনিউমারেশন ফর্ম পাচ্ছেন না। শুভেন্দুর কথায়, ‘নির্বাচন কমিশনকে বলব, বিএলও–রা যেখানে এনিউমারেশন ফর্ম দেননি, তার জন্য ডেডিকেটেড হেল্পলাইনের ব্যবস্থা করুন।
কোনও বৈধ ভোটারকে এনিউমারেশন ফর্ম থেকে বঞ্চিত না করা হয়।’ শুভেন্দু অভিযোগ, পূর্ব মেদিনীপুরের এক বিডিও এক বিএলও–কে বলেছেন, মৃত, শিফটেড ব্যক্তিদের যেন এনিউমারেশন ফর্ম দেওয়া না হয়। কিন্তু কর্মসূত্রে অনেক মানুষ অন্যত্র শিফটেড হয়ে গিয়েছেন। কোনও জায়গায় পুরো পরিবার যদি অন্যত্র চলে যান, তা হলে বিএলও–র কী করা উচিত তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন শুভেন্দু। বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, বিএলও–দের কমিশন যে অ্যাপ দিয়েছে, সেখানে শিফটেড অথবা মৃত ভোটার সম্পর্কে তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার বন্দোবস্ত রয়েছে। রাজ্যে ‘সার’ ঘোষিত হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল নেতৃত্ব স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন, কোনও বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। বিজেপির ‘সার’ নিয়ে প্রচারের মূল ফোকাস ছিল এই প্রক্রিয়ায় এক কোটির বেশি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গা বাদ যাবে।
অন্যদিকে, পূর্ব বর্ধমানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সভা করার অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। পুলিশের পক্ষ থেকে অনুমতি না মেলায় বিজেপি আদালতের দ্বারস্থ হয়। মামলার শুনানি শেষে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, সভা নির্দিষ্ট সময় ও নির্দিষ্ট জায়গাতেই করতে হবে, কোনওভাবেই ট্র্যাফিক ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটানো যাবে না। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সহ একাধিক ইস্যুকে সামনে রেখেই এই সভার আয়োজন বিজেপির। ওই সভায় উপস্থিত থাকবেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
প্রশাসনের অনুমতি না মেলায় বিজেপি আদালতে যায়, এবং আদালত সভার পক্ষে রায় দেয়। হাইকোর্টের নির্দেশ, সভা করতে হবে নির্দিষ্ট সময় ও নির্দিষ্ট স্থানে, ট্র্যাফিক ও সাধারণ মানুষের চলাচলে কোনও সমস্যা সৃষ্টি করা চলবে না, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। বিচারপতির নির্দেশ অনুযায়ী, সভার দিন কীভাবে আইনশৃঙ্খলা ও ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা করা হবে, তার একটি বিস্তারিত রিপোর্ট ১৯ নভেম্বরের মধ্যে হাইকোর্টে জমা দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। সভা শেষে পুরো ঘটনাবলী সংক্রান্ত একটি ডিটেইলড রিপোর্ট দিতে হবে আদালতে।














