জামুড়িয়ার তপসী এলাকার ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের তপসী রেলওয়ে ওভারব্রিজ (আরওবি) এখন উড়ন্ত ধুলোর কারণে ভয়াবহ দুর্ঘটনার জোনে পরিণত হয়েছে। পঞ্জাবী মোড় থেকে হরিপুরমুখী লেনে প্রতিদিন অসংখ্য ভারী যান চলাচল করে। সেইসব গাড়ির চাকা ও দেহ থেকে ঝরে পড়া মিহি ধুলো আরওবির উপর জমে গিয়ে বাতাসে ভেসে ওঠে। ধুলোর ঘন আস্তরণে পিছনে আসা গাড়ির চালকরা কিছুই দেখতে পান না, ফলে যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। ধুলোর উৎস বহুস্তরীয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সমস্যা তৈরি হওয়ার মূল কারণগুলির মধ্যে রয়েছে, জামুড়িয়া শিল্পাঞ্চলের মাঝখান দিয়ে অবস্থান করা এই আরওবির উপর দিয়েই কারখানায় যাওয়ার অধিকাংশ মালবাহী ট্রাক চলাচল করে। সেইসব ট্রাকের শরীর থেকে ঝরে পড়া ছোট ছোট কণাগুলি আরওবির উপর জমে থাকে। আরওবির নিচে গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে সাইডিং রয়েছে, সেখান থেকে আনা–নেওয়া পণ্যবাহী ওয়াগনগুলি অনেক সময় ঢেকে না থাকার ফলে রাস্তার উপর ধুলো ছড়িয়ে পড়ে।
সবচেয়ে গুরুতর সমস্যা হল সাইডিং থেকে সার্ভিস রোডের মাধ্যমে মালবাহী গাড়ির যাতায়াত— বর্ষায় সেই সার্ভিস রোডের অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে পড়ে যে গাড়ির চাকা ও তলায় কাদা ও মাটি লেগে আরওবিতে উঠে আসে। পরে সূর্যের তাপে শুকিয়ে সেই কাদা/মাটি খসে পড়ে ধুলোর রূপ নেয় এবং রাস্তা জুড়ে উড়তে থাকে। ‘দৃশ্যমানতা শূন্য হয়ে যায়’—অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয় বাসিন্দা পার্থ ঘোষ, জাহিদ আনসারি ও নারু সাধুরা জানান, ‘ধুলোর জন্য সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন বাইক আরোহী ও ছোট গাড়ির চালকেরা।
সামান্য হাওয়া বা ভারী গাড়ির শব্দ হলেই এমন ভাবে ধুলো উড়ে যে সামনে কিছুই দেখা যায় না। হঠাৎ ব্রেক কষতে হয়, ফলে পেছন থেকে ধাক্কার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।’ এমন পরিস্থিতিতে আরওবিতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর দাবি। প্রশাসনের কাছে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয়রা। জানান, ‘এনএইচএআই ও প্রশাসন দ্রুত যদি নিয়মিত রাস্তা পরিষ্কার এবং জল ছড়ানোর ব্যবস্থা না করে, তাহলে যে কোনও দিন বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’ একাধিকবার অভিযোগ জানানোর পরও এখনো স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করা হয়নি বলে বাসিন্দাদের ক্ষোভ।














