বালির কারবারেও এবার বিপুল দুর্নীতির খাঁজ খুঁজে পেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বালি পাচার মামলায় শনিবার ব্যাংকশাল আদালতে চার্জশিট জমা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তদন্তকারীদের দাবি, জালিয়াতির জাল বুনে প্রায় ১৪৫ কোটি টাকার আর্থিক তছরুপ করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত অরুণ শরাফ-সহ মোট ১৮ জন এবং জিডি মাইনিং-সহ ১৪টি সংস্থার বিরুদ্ধে এই চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। গত ৬ নভেম্বর গ্রেপ্তার হওয়া অরুণ শরাফের বিরুদ্ধে ৬০ দিনের আগেই নথিপত্র সাজিয়ে আদালতে দৌড়ল ইডি। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, বালি তোলার সরকারি নিয়মকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মুনাফা লুটেছেন অভিযুক্তরা।
ওয়েস্ট বেঙ্গল স্যান্ড (মাইনিং, ট্রান্সপোর্ট, স্টোরেজ ও সেল) বা ডাবলু.বি.এম.ডি.টি.সি.এল-এর নির্দেশিকাকে পাশ কাটিয়ে অবৈজ্ঞানিক ও বেআইনিভাবে বালি খনন করা হয়েছে। ইডির দাবি, কেবল সরকারি কোষাগার থেকেই অন্তত ৭৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন জিডি মাইনিংয়ের কর্ণধার অরুণ শরাফ। সংস্থার ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও ধরা পড়েছে বিপুল অসংগতি। ইডি দেখেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ব্যাংকে ১৩০ কোটি টাকা জমা পড়লেও বালি বিক্রি বাবদ হিসেব দেখানো হয়েছে মাত্র ১০৩ কোটি টাকার। পাচারের কায়দা দেখে কপালে ভাঁজ পড়েছে গোয়েন্দাদের। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, বালি তোলার জন্য নির্দিষ্ট লরির নম্বর ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু জালিয়াতরা একধাপ এগিয়ে একই নম্বর ব্যবহার করে একাধিক লরি দিয়ে বালি পাচার করত। প্রশাসনের নজর এড়াতে এমনকি কিউআর কোডও জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এর ফলে সাধারণ চোখে বৈধ মনে হলেও তলে তলে চলত বিপুল বালির কারবার।
গত সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতা, ঝাড়গ্রাম, নদিয়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরে একযোগে অভিযান চালিয়েছিল ইডি। ঝাড়গ্রামের শেখ জহিরুল আলি থেকে শুরু করে সৌরভ রায়ের মতো ব্যবসায়ীদের নামও জড়িয়েছে এই পাচারচক্রে। ইডির দাবি, নদী থেকে বালি তোলা এবং তা বিক্রির গোটা প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির যত রকম উপায় সম্ভব, সবই প্রয়োগ করা হয়েছিল। এই বিপুল অর্থ কোথায় সরানো হয়েছে এবং এর নেপথ্যে আরও প্রভাবশালী কেউ আছে কি না, চার্জশিটে সেই ইঙ্গিতও রয়েছে। লোকসভা ভোটের আগে বালিকাণ্ডে এই তৎপরতা নিশ্চিতভাবেই শোরগোল ফেলে দিয়েছে প্রশাসনিক মহলে ।















