ম্যাচের উত্তেজনা তখন শেষ। ওমান চেষ্টা করছিল শেষ জুটিতে কোনোরকমে ২০ ওভার পর্যন্ত খেলার। সেই চেষ্টাতেই মহম্মদ নাদিম পা রাখলেন পঞ্চাশে। ম্যাচের বাস্তবতায় ইনিংসটির মূল্য খুব একটা নেই। তবে রেকর্ড বইয়ের একটি পাতায় তিনিই এখন সবার ওপরে!
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে ফিফটি রেকর্ড এখন নাদিমের। আগের রেকর্ডটির চেয়ে সাড়ে তিন বছর বেশি বয়সে তিনি গড়লেন এই রেকর্ড । শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় হারের ম্যাচে পাল্লেকেলেতে বৃহস্পতিবার ৫৬ বলে ৫৩ রানে অপরাজিত থাকেন নাদিম। ম্যাচটি খেলেন তিনি ৪৩ বছর ১৬১ দিন বয়সে।
২০ ওভারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে ফিফটির আগের রেকর্ড যার ছিল, তিনিও ছিলেন এ দিন মাঠে। এখন যে তিনি শ্রীলঙ্কার কোচ! ২০০৯ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪৭ বলে ৮১ রানের ইনিংসটি খেলার দিন সনথ জয়সুরিয়ার বয়স ছিল ৩৯ বছর ৩৪৫ দিন । ৩৯ বছর ২৭৯ দিন বয়সে ফিফটি করে রেকর্ডের তিনে শোয়েব মালিক। ২০২১ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ২৫ বলে অপরাজিত ৫৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
বিশ্বকাপের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অবশ্য অনেকটাই পেছনে আছেন নাদিম। ৫২ বছর বয়সে ফিফটির কীর্তিও যে আছে! লুক্সেমবার্গের টনি হোয়াইটম্যান ২০২১ সালে মাল্টার বিপক্ষে ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন ৫২ বছর ১০১ দিন বয়সে। তিন সংস্করণ মিলিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি বয়সে অর্ধশত করার রেকর্ড সেটি । ইংল্যান্ডের জর্জ গান সে ১৯৩০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জ্যামাইকা টেস্টে ফিফটি করেছিলেন ৫০ বছর ২৯৪ দিন বয়সে।
টি-টোয়েন্টিতে পঞ্চাশ পেরিয়ে পঞ্চাশ ছোঁয়ার নজির কেবল নাদিমেরই। গ্রীসের আসলাম মহম্মদ ২০২১ সালেই পরপর দুই দিন সার্বিয়া ও রোমানিয়ার বিপক্ষে ফিফটি করেন ৪৯ বছর ৩২০ দিন ও ৪৯ বছর ৩২১ দিন বয়সে । নাদিমের জন্ম ও বেড়ে ওঠা পাকিস্তানে। পরে পাড়ি জমান ওমানে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক প্রায় ৩৩ বছর বয়সে। তখন তিনি ছিলেন পুরোদস্তুর পেস বোলিং অলরাউন্ডার। বয়সের ভারে এখন বোলিং করেন কমই। ৭১ টি-টোয়েন্টিতে তার তৃতীয় ফিফটি এটি ।












