বাংলার প্রতিটি কোণেই ছড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় বিশ্বাসের অমূল্য নিদর্শন। পশ্চিমবঙ্গকে ‘মন্দিরের রাজ্য’ বলা হলে একটুও অতিরঞ্জন হবে না। তারই এক মণিমুক্তো হলো মুর্শিদাবাদ জেলার আজিমগঞ্জের বড়নগরে অবস্থিত পঞ্চমুখী শিব মন্দির। ভাগীরথীর তীরঘেঁষে এই ছোট অথচ দর্শনীয় মন্দিরটি যেন অতীতের সঙ্গে বর্তমানকে জুড়ে রেখেছে।
এই মন্দিরের স্থাপত্য চারবাংলা মন্দিরের আদলে নির্মিত, আর এর বিশেষত্ব হলো একটি মাত্র শিবলিঙ্গে শিবের পাঁচটি মুখ , যা হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী আলাদা ব্যাখ্যার দাবিদার। অঘোর, তৎপুরুষ, বামদেব, সদ্যজাত ও ঈশান । এই পাঁচটি রূপে চিহ্নিত এই শিবলিঙ্গ হিন্দু ধর্মবিশ্বাসে বিরল ও পবিত্র বলে মনে করা হয়। এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছেন রানি ভবানী। স্বামীর মৃত্যুর পর রাজশাহী থেকে বড়নগরে এসে বসবাস শুরু করেন তিনি। তারপর ধর্মনিষ্ঠ এই রানি বড়নগরে ১০৭টি শিবমন্দির নির্মাণ করেন। জনসাধারণের উন্নয়নে অবদানের জন্য তিনি আজও শ্রদ্ধার পাত্র।
ফলে বড়নগর পরিচিত ‘বাংলার বেনারস’ নামেও। মন্দিরের সম্মুখে মনোমুগ্ধকর টেরাকোটার কাজ নজর কাড়ে। সবুজ পরিবেশে ঘেরা এই মন্দিরে প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের আনাগোনা লেগেই থাকে।এছাড়াও বড়নগরে রয়েছে চারবাংলা মন্দির, রাজবাড়ি, গঙ্গেশ্বর মন্দির, ভবানীশ্বর মন্দির ইত্যাদি দর্শনীয় স্থান। কলকাতা থেকে ট্রেনে আজিমগঞ্জ পৌঁছে সহজেই টোটো ভাড়া করে ঘুরে দেখা যায় ঐতিহ্যবাহী এই এলাকা। এ যেন বাংলার ধর্ম, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের এক অপূর্ব মিলনক্ষেত্র।














