আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দুপুরে তপ্ত ধর্মতলার রাজপথ। একদিকে কেন্দ্রের ‘বঞ্চনা’ আর অন্যদিকে আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি, এই দুই ফলায় বিঁধে রবিবার মেট্রো চ্যানেলের ধরনামঞ্চ থেকে গর্জে উঠল তৃণমূলের নারীশক্তি। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে অভিনব বিক্ষোভ দেখালেন মহিলা নেতা-কর্মীরা। সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে কালো পোশাকে মিছিলে পা মেলালেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজার মতো মন্ত্রীরা। হাতে ধরা প্রতীকী গ্যাস সিলিন্ডার আর খুন্তি-কড়া। সুর বেঁধে দিলেন খোদ তৃণমূল নেত্রী ‘নো গ্যাস নো রান্না’।
রবিবার মেট্রো চ্যানেলের ধরনামঞ্চের মেজাজ ছিল একদম আলাদা। গান, নাচ আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মোড়কে চলল রাজনৈতিক প্রতিবাদ। তৃণমূলের অভিযোগ, আসন্ন নির্বাচনের আগে চক্রান্ত করে ভোটার তালিকা থেকে মহিলাদের নাম বাদ দিচ্ছে কেন্দ্র। নেত্রীর কথায়, ‘অগণতান্ত্রিকভাবে’ ভোটার তালিকা ছেঁটে গণতন্ত্র হত্যার চেষ্টা চলছে। গত শুক্রবার থেকেই এসআইআর-এর মাধ্যমে ভোটারদের অধিকার হরণের অভিযোগে ধরনায় বসেছেন মমতা। ২০ বছর আগে যে মেট্রো চ্যানেলে সিঙ্গুর আন্দোলনের জন্য অনশন করেছিলেন তিনি, রবিবার ফের সেখানেই রাজ্যের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সরব মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন সকাল ১১টা নাগাদ সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে শুরু হয় কালো পোশাকের অভিনব মিছিল। মিছিলে মহিলাদের হাতে ছিল রান্নার সরঞ্জাম এবং প্ল্যাকার্ড। মন্ত্রীদের দাবি, কেন্দ্রের জনবিরোধী নীতির কারণে সাধারণ মানুষের হেঁসেলে আগুন লেগেছে। রান্নার গ্যাস থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় শাক-সবজি সব কিছুই আজ মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। ধর্মতলায় মিছিল শেষ হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই অংশগ্রহণকারীদের মঞ্চে বসার ব্যবস্থা করে দেন।
মঞ্চ থেকে এদিন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও কড়া সমালোচনা করা হয়। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, মৃতদের পাশাপাশি জীবিত ভোটারদের নামও তালিকা থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের মহিলা কর্মীদের হুঁশিয়ারি, ‘কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের একতরফা সিদ্ধান্তের সব জবাব মানুষ ভোটে দেবে।’ সব মিলিয়ে নারী দিবসের মঞ্চকে কেন্দ্র করে তৃণমূল এদিন বুঝিয়ে দিল, আগামীর লড়াইয়ে মহিলাদের অধিকার রক্ষাকেই তারা প্রধান হাতিয়ার করতে চলেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা ভোটের আগে এই ধরনা আসলে রাজ্যের নারীশক্তিকে একজোট করার এক সুকৌশলী চাল।
মেট্রো চ্যানেলের এই জনজোয়ার থেকে স্পষ্ট বার্তা গেল দিল্লিতে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন প্রমান করতে চাইলেন, বাংলার মহিলাদের অধিকার রক্ষায় তিনি এখনও আপসহীন। একদিকে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মানুষের ক্ষোভকে উসকে দেওয়া, আর অন্যদিকে ভোটাধিকার হরণের আবেগ, এই জোড়া ইস্যুতে এদিন সরগরম রইল ধর্মতলা। তৃণমূলের দাবি, এই লড়াই শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং বাংলার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। দিনভর চলা এই কর্মসূচিতে মেট্রো চ্যানেলের চত্বর কার্যত এক প্রতিবাদী রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল।














