মধ্যবিত্তের হেঁসেলে অগ্নিমূল্য রান্নার গ্যাস। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার জেরে কলকাতায় এক ধাক্কায় সিলিন্ডার প্রতি দাম বেড়েছে ৬০ টাকা। শনিবার থেকে কার্যকর হওয়া এই মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে যখন তৃণমূল সরব, ঠিক তখনই মুখ্যমন্ত্রীকে পাল্টা দাওয়াই দিলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার ভরতুকি দিলেই বাংলায় গ্যাসের দাম অনেকটা কমতে পারে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অনুদানের প্রসঙ্গ টেনে অধীর বলেন, ‘আপনি যদি লক্ষ্মীর ভান্ডারে মা বোনেদের জন্য পয়সা দিতে পারেন, তাহলে গ্যাসের জন্যও পয়সা দিন। কারণ গ্যাসটা তো ব্যবহার করেন মা-বোনেরাই।’
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মেঘ ঘনীভূত হতেই তার প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। ভারতের প্রয়োজনের প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ রান্নার গ্যাস বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এর ফলেই হুহু করে বাড়ছে এলপিজির দাম। কলকাতায় ঘরোয়া সিলিন্ডারের দাম এখন ৯৩৯ টাকা। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ১১৪ টাকা বেড়ে যাওয়ায় মাথায় হাত হোটেল-রেস্তরাঁ মালিকদেরও। দিল্লিতে যে গ্যাসের দাম ৯১৩ টাকা, কলকাতায় তা অনেকটাই বেশি। এই নিয়ে রাজ্যের উপর চাপ বাড়িয়ে অধীর চৌধুরী জানান, রাজ্য চাইলে এই বাড়তি দামের বোঝা থেকে মানুষকে রেহাই দিতে পারে।
সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সরাসরি সওয়াল করেন। তাঁর কথায়, ‘দিদি যদি মনে করেন, গ্যাসের দাম কিছুটা কমাতে পারেন। দিদি যদি ভাবেন, গ্যাসে যতটা দাম বাড়ল, ততটা যদি সাবসিডি দিই, তাহলে মানুষ সস্তার গ্যাস পাবে। এটা রাজ্য যদি মনে করে, রাজ্য পারবে।’ রাজ্যে চলা একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের উদাহরণ টেনে তিনি স্পষ্ট জানান, সর্বত্র অনুদান দেওয়া হলে গ্যাসের ক্ষেত্রেও ভরতুকি দেওয়া সম্ভব। মা-বোনেদের রান্নার সঙ্কট মেটাতে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই পথে নামার ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কালো শাড়ি ও হাতা-খুন্তি হাতে নিয়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল। তবে রাজনীতির এই চাপানউতোরের মাঝেই পিষ্ট সাধারণ মানুষ। কলকাতা, মুম্বই, দিল্লি বা চেন্নাই সর্বত্রই এখন জ্বালানির জ্বালায় জেরবার সাধারণ গৃহস্থ। অধীরের এই ‘ভরতুকি ফর্মুলা’ রাজ্য সরকার গ্রহণ করে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের কয়েক কোটি উপভোক্তা।














