বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই রাজ্যে বাড়তি সক্রিয়তা দেখাল নির্বাচন কমিশন। বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষকের পর এবার সাধারণ নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে অভিজ্ঞ আমলা সুব্রত গুপ্তকে নিয়োগ করল কমিশন। মঙ্গলবার দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকের পরেই এই হাইপ্রোফাইল নিয়োগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। এর আগে এক অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস আধিকারিককে স্পেশ্যাল অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করেছিল কমিশন।
এবার সুব্রত গুপ্তর কাঁধেও বড় দায়িত্ব তুলে দেওয়া হল। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই দুই পর্যবেক্ষকের নিয়োগ রাজ্যের রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের তিন দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফর শেষ হয়েছে মঙ্গলবারই। কলকাতার সেই মেগা বৈঠকের রেশ কাটতে না কাটতেই এই সিদ্ধান্ত সামনে এল। ১৯৯০ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইএএস অফিসার সুব্রত গুপ্ত আমলা মহলে অত্যন্ত দক্ষ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষ হিসেবে পরিচিত। এমনকি জ্যেষ্ঠতার নিরিখে একসময় রাজ্যের মুখ্য সচিব পদের অন্যতম জোরালো দাবিদার ছিলেন তিনি। অবসরপ্রাপ্ত এই আধিকারিককে এর আগে স্পেশ্যাল রোল অবজার্ভার বা বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার নজরদারির দায়িত্ব দিয়েছিল কমিশন।
এবার তাঁকেই নির্বাচনের মূল পর্যবেক্ষক করা হল। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বাংলা থেকে হিংসা ও ভীতি দূর করাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। কর্তব্যে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। জেলাশাসক বা পুলিশ সুপারদের উদ্দেশ্যে তাঁর কড়া বার্তা, ‘ভোটের কাজে ত্রুটি থাকলে কেবল বদলি নয়, বিভাগীয় তদন্ত বা ডিপার্টমেন্টাল প্রসেডিংস শুরু করা হবে।’
এই কড়া বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুব্রত গুপ্তর নিয়োগের খবর আসে। সুব্রত গুপ্তর প্রধান কাজ হবে গোটা রাজ্যের বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া তথা এসআইআরের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা। ভোটার তালিকায় যাতে কোনও অযোগ্য ব্যক্তি ঢুকে না পড়ে কিংবা কোনও যোগ্য নাগরিক বাদ না যায়, তা নিশ্চিত করার ভার তাঁর ওপর। তিনি সরাসরি জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে গ্রাউন্ড লেভেলের রিপোর্ট এবং ইনপুট পাঠাতে পারবেন। তবে বিএলও বা ইআরও-দের সরাসরি কোনও প্রশংসা বা শংসাপত্র দেওয়ার অধিকার তাঁর নেই। ভালো কাজের ক্ষেত্রে তিনি কেবল কমিশনের কাছে সুপারিশ করতে পারবেন। কার্যত ভোট প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দিল্লির ‘চোখ’ হয়ে কাজ করবেন এই বর্ষীয়ান প্রাক্তন আমলা। ছবি -আইএএনএস।














