ভোটের মুখে কয়লা মাফিয়াকে দলে টানার অভিযোগে বিজেপিকে নজিরবিহীন আক্রমণ শানাল তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার তৃণমূল ভবনে আয়োজিত এক হাইভোল্টেজ সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা ও পার্থ ভৌমিক। কয়লা পাচারকারীকে দলে জায়গা দেওয়া থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহার এবং রান্নার গ্যাসের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি— একগুচ্ছ ইস্যুতে এদিন সরব হয় জোড়াফুল শিবির।
বিজেপির বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলে এদিন শুরুতেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন শশী পাঁজা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে অমিত শাহের সভার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের, অমিত শাহ, তিনি এসেছিলেন মথুরাপুরে এবং তিনি কয়লা নিয়ে, কয়লা স্মাগলিং ইত্যাদি নিয়ে অনেক কিছু, তাঁর ভাষায় ‘তাসকারি’ ইত্যাদি নিয়ে অনেক কিছু বললেন। দুর্নীতি নিয়ে বললেন কিন্তু অদ্ভুত ভাবে, আমরা দেখছি যে এখন দুর্নীতি সম্বন্ধে শুধু কথা নয়, দুর্নীতিকে জায়গা করে দিচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি।’ শশীর দাবি, আসানসোল দক্ষিণের কুখ্যাত কয়লা মাফিয়া জয়দেব খাঁ-কে গত ৯ মার্চ দলের স্থায়ী সদস্যপদ দিয়েছে বিজেপি। শাহের সঙ্গে জয়দেবের ছবি দেখিয়ে তাঁর তোপ, ‘কতো বিনম্রভাবে তাঁকে কাছে দাঁড় করিয়েছেন মাননীয় আমাদের ইউনিয়ন হোম মিনিস্টার অমিত শাহজি অত্যন্ত দক্ষ এবং সক্রিয় ভারতীয় জনতা পার্টির কার্যকর্তা হিসেবে একবারেই পলিটিকাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিয়ে দিয়েছে বিজেপি।’
একই সুরে সুর মিলিয়ে বিজেপির ‘ওয়াশিং মেশিন’ নীতি নিয়ে সরব হন তৃণমূল নেতা পার্থ ভৌমিক। প্রবাদ আউড়ে তিনি কটাক্ষ করেন, ‘বাংলায় একটা প্রবাদ বাক্য আছে, রতনে রতন চেনে।’ কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে ব্যারাকপুরের সাংসদ বলেন, ‘বিজেপির সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলেছে। অর্থাৎ ইডি-সিবিআইকে ব্যবহার করো বিরোধীদের বিরুদ্ধে, এবং তাদের ভয় দেখাও, এবং তারা ভয় পেয়ে যদি সারেন্ডার করে, তাদের বিজেপিতে নিয়ে এসে তাদের সম্মান দাও।’ তাঁর বিস্ফোরক দাবি, ‘আপনি যদি অপরাধ করে বিজেপিতে আশ্রয় নেন, তাহলে আপনাকে কোনও আর বড় উকিল ধরতে হবে না। ইডি-সিবিআই-কে বিজেপি তাদের এমন তাঁবেদারে পরিণত করেছে যে তাদের এখন কাজ হচ্ছে কোনও প্রশাসনিক ব্যবস্থা না-নিয়ে কীভাবে বিজেপির দল ভারী করা যায় সেটা দেখা।’
সাংবাদিক বৈঠকের দ্বিতীয় পর্বে শশী পাঁজা রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করেন। তাঁর সরস টিপ্পনী, ‘আন্তর্জাতিক মহিলা দিবস উপলক্ষে ভারতবর্ষের মহিলাদের জন্য একটা বিশেষ উপহার দিলেন নরেন্দ্র মোদি এই যে গ্যাসের দামের বৃদ্ধির মাধ্যমে আপনি গৃহযুদ্ধ লাগিয়ে দিয়েছেন। আপনি রান্নাঘর হেঁশেলেতে যুদ্ধ লাগিয়ে দিয়েছেন।’
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক যুদ্ধের আবহে কেন্দ্রের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পার্থ ভৌমিক বলেন, ‘আমেরিকা ইরানের এই যুদ্ধের এই অবস্থায় ভারতবর্ষের সরকারের টনক ১৫ দিন বাদে নড়ল, আপনি হোম ডেলিভারির ক্ষেত্রেও বলছেন ২১ দিনেরটা ২৫ দিন হয়ে গেল আপনার কোনও পরিকল্পনাই ছিল না এবং ভারতবর্ষের মানুষকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছেন।’ এমনকি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন শশী। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নীরবতা নিয়ে তাঁর কটাক্ষ, ‘গতকালকে তো উনি প্রেস কনফারেন্সে প্রশ্নের উত্তর দিলেন না। ওই ওয়েভ করার মতো একটু হেসে দিলেন।’ সব মিলিয়ে ভোটের ঠিক আগে পদ্মশিবিরকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ ঘাসফুল শিবির।















