পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দেশে রান্নার গ্যাসের আকাল তৈরি হওয়ার যে আশঙ্কা দানা বেঁধেছিল, তাতে স্বস্তির বার্তা দিল কেন্দ্র । শনিবার মোদী সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দেশে এলপিজি, পেট্রল বা ডিজেলের কোনও আকাল নেই। তাই আতঙ্কিত হয়ে বা ‘প্যানিক বুকিং’ করে অহেতুক সিলিন্ডার মজুত করার প্রয়োজন নেই। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার মতো বা ‘ড্রাই আউট’ পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বরং অভ্যন্তরীণ চাহিদা সামাল দিতে দেশীয় শোধনাগারগুলিতে উৎপাদন এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়ানো হয়েছে। নয়াদিল্লির এই আত্মবিশ্বাসের মূলে রয়েছে হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের সঙ্গে হওয়া কূটনৈতিক সাফল্য।
ইজরায়েল-আমেরিকা বনাম ইরান সংঘাতের জেরে ওই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল থমকে গিয়েছিল। ভারতের অন্তত ২৮টি পণ্যবাহী জাহাজ সেখানে আটকে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও দফায় দফায় আলোচনা চালান তেহরানের সঙ্গে। সেই আলোচনার পরেই বরফ গলেছে। ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘ভারত ও ইরান বন্ধু’। আর সেই বন্ধুত্বের খাতিরেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতগামী জাহাজ চলাচলে কোনও বাধা দেবে না ইরান। কূটনৈতিক এই সবুজ সংকেত পাওয়ার পরেই ভারতের পথে রওনা দিয়েছে শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এসসিআই)-র দু’টি বিশালাকায় জাহাজ— ‘শিবালিক’ ও ‘নন্দাদেবী’।
জাহাজ দু’টিতে মোট ৯২ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি এলপিজি রয়েছে। এর মধ্যে শুধু শিবালিকেই রয়েছে প্রায় ৪৬ হাজার মেট্রিক টন গ্যাস। আগামী ১৬-১৭ মার্চ গুজরাতের মুন্দ্রা ও কান্ডলা বন্দরে এই দুই ত্রাতার নোঙর করার কথা। এছাড়া ‘জগপ্রকাশ’ নামে আরও একটি ভারতীয় জাহাজ ওমান থেকে আফ্রিকার উদ্দেশে রওনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশকুমার সিংহ জানিয়েছেন, ওই জাহাজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ গ্যাসোলিন। উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ার এই সংকটে ভারতের গ্যাস আমদানির প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যাহত হয়েছিল, যা এখন স্বাভাবিক হওয়ার পথে। প্রসঙ্গত, ভারত প্রতিদিন গড়ে ১৯.১ কোটি আদর্শ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করে, যার অর্ধেকই আসে আমদানির মাধ্যমে।
গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করার পাশাপাশি বুকিংয়ের ক্ষেত্রে কিছু নিয়মের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে মন্ত্রক। এখন থেকে ডিস্ট্রিবিউটর অফিসে সশরীরে না গিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ, এসএমএস বা অ্যাপের মাধ্যমে বুকিং করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে রান্নার গ্যাসের অপচয় রুখতে কড়াকড়ি থাকছেই। নিয়ম অনুযায়ী, শহরাঞ্চলে একটি সিলিন্ডার পাওয়ার ২৫ দিন পর এবং গ্রামাঞ্চলে ৪৫ দিন পর রিফিলের জন্য আবেদন করা যাবে। নির্ধারিত সময়ের আগে অনলাইনে বুকিং করলেও তা গ্রাহ্য হবে না। মন্ত্রক জানিয়েছে, এই কঠিন সময়ে এলপিজি গ্রাহকরা চাইলে ‘পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস’ বা পিএনজি ব্যবহারের দিকেও ঝুঁকতে পারেন। সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক মহলে যুদ্ধের দামামা বাজলেও ভারতের হেঁশেল সুরক্ষিত রাখতে বদ্ধপরিকর নয়াদিল্লি।














