ক্ষমতার কেন্দ্র এখন নবান্নে, কিন্তু রাজনৈতিক বার্তার কেন্দ্র হিসেবে নন্দীগ্রামের গুরুত্ব এখনও অটুট। সেই কারণেই রাজ্যজুড়ে শুরু হতে চলা জনকল্যাণ শিবির কর্মসূচির সূচনার জন্য এই ঐতিহাসিক জনপদকেই বেছে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি এই সফরে রয়েছে স্পষ্ট রাজনৈতিক তাৎপর্যও। আজ(সোমবার) নন্দীগ্রামের একাধিক কর্মসূচিতে যোগ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। উন্নয়নমূলক সভা, জনসংযোগ এবং সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ, সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ।
প্রশাসনের শীর্ষ মহলের মতে, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে যে জটিলতা বা দৌড়ঝাঁপের অভিযোগ বহু সময় শোনা যায়, সেই ব্যবধান কমাতেই এই উদ্যোগ। তিন দিনের এই কর্মসূচিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অস্থায়ী শিবির বসবে। সেখানে খাদ্য নিরাপত্তা, আবাসন, কৃষি সহায়তা, পেনশন, স্বাস্থ্যসুরক্ষা, ক্ষুদ্রঋণ এবং স্বনিযুক্তির মতো একাধিক প্রকল্পের জন্য আবেদন গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা থাকবে। সরকারের বক্তব্য, দপ্তরের দরজায় মানুষ নয়, মানুষের দরজায় পৌঁছবে প্রশাসন। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর অন্য জায়গায়। নন্দীগ্রাম কেবল একটি বিধানসভা কেন্দ্র নয়; পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি এক প্রতীক।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরও এই এলাকার সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখার যে বার্তা শুভেন্দু বারবার দিয়েছেন, এ দিনের কর্মসূচি সেই প্রতিশ্রুতিরই পুনরাবৃত্তি। ফলে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি এতে রয়েছে আবেগ ও রাজনৈতিক স্মৃতির সংমিশ্রণ। রেয়াপাড়া থেকে কালীচরণপুর— বিভিন্ন কর্মসূচি ঘিরে এলাকায় ইতিমধ্যেই তৎপরতা চোখে পড়ছে। সভাস্থল সাজানো থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সর্বত্র শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। স্থানীয়দের একাংশের আশা, ঘোষিত প্রকল্পগুলির বাস্তব সুবিধা দ্রুত হাতে এলে এই উদ্যোগের সার্থকতা মিলবে। রাজনৈতিক ভাষ্যে জনসভা সাধারণ ঘটনা। কিন্তু যখন সেই সভার সঙ্গে সরাসরি সরকারি পরিষেবা যুক্ত হয়, তখন তার তাৎপর্য বদলে যায়। নন্দীগ্রাম থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত কতটা মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কারণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির চেয়ে নাগরিকের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে পরিষেবার বাস্তব প্রাপ্তি।













