উত্তরবঙ্গ সফরের শেষ লগ্নে নকশালবাড়ির নন্দপ্রসাদ গার্লস হাইস্কুল ময়দান থেকে কার্যত রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার জনসভা থেকে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট বিভ্রাট এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, “শোনা যাচ্ছে আট লক্ষ মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। হঠাৎ ওয়েবসাইট থেকে নাম মুছে যাওয়া হ্যাকিং না কি বজ্জাতি, সেটা স্পষ্ট করুক কমিশন।”
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে গোলমাল নিয়ে সরব হয়ে মমতা জানান, খোদ তাঁর নামও সন্দেহের তালিকায় চলে গিয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্বস্ত করে নেত্রী বলেন, “যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের জন্য আমরা বিশেষ ক্যাম্প করব। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিনা পয়সায় আইনজীবী দেওয়া হবে। আপনারা শুধু দরখাস্ত করুন, লড়াই আমি লড়ব।”
এদিন মঞ্চ থেকে মহিলাদের বিশেষ বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “বাঁকুড়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বিজেপির পতাকা নিয়ে যেতে দেখেছি। মা-বোনেরা তৈরি থাকুন, ভোটের দিন সকাল থেকে বুথ পাহারা দিন। যাতে দিল্লির লোক এসে ছাপ্পা দিতে না পারে। ভয় দেখালে ঘরে যা আছে তা নিয়ে বেরোবেন।” তাঁর স্পষ্ট বার্তা, এসআইআর ও এনআরসি-র অপমানের বদলা নিতে হবে ব্যালট বক্সেই।
প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের দফায় দফায় বদলি প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীকে না জানিয়ে অফিসারদের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ঝড় বা দুর্যোগ হলে মানুষকে সুরক্ষা দেবে কে? খাবার দেবে কে?” বিজেপির উদ্দেশে তাঁর চ্যালেঞ্জ, “ওরা জানে না, আমি ভাঙি তবু মচকাই না।”
রামনবমীর প্রাক্কালে ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতির বিরোধিতায় মমতা বলেন, “রাম কারও একার নয়। বাংলায় সব উৎসব আমাদের উৎসব। আমরাও রামনবমীর মিছিল করি, কিন্তু দাঙ্গা করি না।” বিজেপিকে ‘জনতার জমিদারি’র শক্তি বোঝানোর ডাক দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, বাংলায় কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প হতে দেবেন না তিনি। এদিন তাঁর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির প্রার্থী শংকর মালাকার এবং ফাঁসিদেওয়ার প্রার্থী রিনা এক্কা।















