তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ!রাজ্য পুলিশের সাইবার সেলে এই মর্মে চিঠি পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। ওই তিনটি অ্যাকাউন্টে মিলিয়ে মোট ৪৪০ কোটি টাকা রয়েছে বলে জানা গেছে।বিধাননগর দক্ষিণ থানায় ঋতপন্থী বলে পরিচিত ১০ জন তৃণমূল বিধায়কের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত ওই তিন অ্যাকাউন্টে কোনও লেনদেন করা যাবে না।দিন কয়েক আগে তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ পরিচয় দিয়ে দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার দাবিতে চিঠি লিখেছিলেন অরূপ বিশ্বাস। সেই চিঠিকে সমর্থন জানিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ওই অ্যাকাউন্টে কাটমানির টাকা থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না এবং তদন্ত হওয়া উচিত। এই প্রেক্ষাপটেই শুক্রবার বিধাননগর দক্ষিণ থানায় ঋতপন্থী ১০ জন তৃণমূল বিধায়ক অবিলম্বে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আর্জি জানান, যার পরই তদন্তে নামে সাইবার সেল।
এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের মুখপাত্র ও বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন,পুরো ঘটনার উপর নজর রাখা হচ্ছে। তৃণমূলের তরফে আরও জানানো হয়েছে, গত ৫ জুন শুভাশিস চক্রবর্তীকে দলের কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ করা হয়েছে এবং এই বিষয়টি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানানোও হয়েছে, ফলে অরূপ বিশ্বাসের কোষাধ্যক্ষ দাবি ধোপে টিকছে না বলে দলের বক্তব্য।অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ায় আর্থিক সমস্যা তৈরি হবে বলে স্বীকার করা হলেও, সাংসদদের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আপাতত খরচ চালানোর ভাবনা রয়েছে দলের অন্দরে। এই সিদ্ধান্তকে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।প্রশ্নের জবাবে আসল তৃণমূল শিবিরের বিধায়ক সন্দীপন সাহা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে লেনদেন হওয়া উচিত নয় বলেই পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়েছিল এবং পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে।
তিনি দাবি করেন, অ্যাকাউন্টে থাকা টাকার বৈধতা এবং উৎস নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকে একের পর ধাক্কা সামলাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভায় দলের পরিষদীয় দল ভেঙে গেছে, সংসদীয় দলও হাতছাড়া হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। দলীয় প্রতীক তাঁর হাতে থাকবে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দল বাঁচাতে মরিয়া অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি গিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে বিদ্রোহী সাংসদদের পদ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। একের পর এক পুরনিগম ও পুরসভাও হাতছাড়া হচ্ছে দলের। এই পরিস্থিতিতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের ঘটনা তৃণমূলের সংকট আরও গভীর করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।













