বাংলার রাজনীতিতে সাম্প্রতিক ‘ডিম সংস্কৃতি’ নিয়ে কড়া মনোভাব নিল বিজেপি। দল এ ধরনের ঘটনা যে কোনওভাবেই অনুমোদন করছে না, বিধায়কদের নিয়ে এক বিশেষ বৈঠকে তা স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।মঙ্গল ও বুধবার, দু’দিন ধরে কলকাতার বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে দলের বিধায়কদের নিয়ে এই বিশেষ বৈঠক করে বিজেপি। দু’দিনই উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ছাড়াও সুকান্ত মজুমদার, সুনীল বনসল, অমিত মালব্য, অমিতাভ চক্রবর্তী প্রমুখ শীর্ষ নেতৃত্ব।বৈঠকে নেতৃত্বের বার্তা স্পষ্ট — ডিম ছোড়া, নিচুতলায় পার্টি অফিস দখলের মতো ঘটনায় না জড়িয়ে সরকারের ইতিবাচক কাজকে মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে বিধায়কদের।
তৃণমূলের পূর্ববর্তী শাসনের জবাব যে বিজেপির জনমুখী বাজেটেই রয়েছে, সেই বার্তা আরও বেশি করে মানুষের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নেতৃত্ব।সম্প্রতি পেশ হওয়া রাজ্য বাজেটে ঘোষণা হয়েছে, বর্তমান ১৮ শতাংশ মহার্ঘ ভাতার উপর অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ দেওয়া হবে, ফলে মোট ভাতার হার দাঁড়াবে ৩৮ শতাংশ, যা কার্যকর হবে আগামী ১ অক্টোবর থেকে। এর পাশাপাশি বাজেটে ১ লক্ষ চাকরির সংস্থানের কথাও বলা হয়েছে। সরকার যে যথেষ্ট ভালো কাজ করেছে, তার প্রচার আরও জোরদার করতে নির্দেশ দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।একইসঙ্গে দলের কোনও স্তর থেকে তোলাবাজির অভিযোগ যাতে কোনও ভাবেই না আসে, সে বিষয়েও বিধায়কদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে বৈঠকে।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বিধায়কদের সিংহভাগই প্রথমবার বিধায়ক হয়েছেন এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা তুলনামূলক কম। সেই কারণে বিধায়ক হিসেবে তাঁদের কর্তব্য কী, দল ও সরকারের কাজের মধ্যে সীমারেখা কোথায়, সাংগঠনিক বিষয়ে তাঁদের এক্তিয়ার কতটা এবং বিধায়কের সঙ্গে দলের সমন্বয় কীভাবে হবে— এই সবকিছু নিয়েই পাঠ দেওয়া হয় বৈঠকে। দলের শৃঙ্খলা মেনে কাজ করার বার্তাও ফের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন শীর্ষ নেতৃত্ব।















