বিশ্বরাজনীতির আকাশে যখন ঘন কালো মেঘ, চারদিকে যুদ্ধ আর ভূরাজনীতির অনিশ্চয়তার চোরাস্রোত, তখন উদীয়মান সূর্যের দেশ জাপানের চোখ গিয়ে পড়েছে দিল্লির সাউথ ব্লকের দরবারে। টোকিও খুব ভালো করেই জানে, বৈশ্বিক ঝড়ের ঝাপটা থেকে বাঁচতে হলে এই মুহূর্তে ভারতের চেয়ে বিশ্বস্ত এবং শক্তিশালী নোঙর আর দুটি নেই। আর সেই অমোঘ টানেই, ১৬তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বুধবার দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
তবে তিনি একা আসছেন না, পকেটে করে নিয়ে আসছেন জাপানি বাণিজ্য দুনিয়ার প্রায় দেড়শো দিকপালকে। যাওয়ার আগে ঘরোয়া সাংবাদিক বৈঠকে তাকাইচি সাফ জানিয়ে দিলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির এই টালমাটাল আবহে ভারতের সঙ্গে হাত মেলানোটা এখন আর কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, রীতিমতো সময়ের দাবি। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক যে স্রেফ চা-পানের আড্ডা কিংবা মউ স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতায় আটকে থাকবে না, তার ইঙ্গিত মিলেছে প্রধানমন্ত্রীর কথাতেই।
কৌশলগত অংশীদারিত্বের গভীরতা মাপা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সুদৃঢ় করা এবং দুই দেশের কর্পোরেট দুনিয়াকে এক ছাতার তলায় এনে ইনোভেশনের জোয়ার তোলা—এই তিন দাওয়াই নিয়েই দিল্লির মাটিতে পা রাখছেন তিনি। সঙ্গে ভারত-জাপান ইকোনমিক ফোরামের ওই ১৫০ জন বিজনেস টাইকুনের উপস্থিতি প্রমাণ করছে যে, টোকিও এবার সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রকে এক সুতোয় বেঁধে ভারতীয় বাজারে এক জোরদার আর্থিক বিস্ফোরণ ঘটাতে চাইছে। তবে শুধু ব্যবসার খাতা খুলে বসা নয়, এশিয়ার দুই বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখার গুরুদায়িত্বও যে তাদের কাঁধেই, সে কথা মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি জাপানি প্রধানমন্ত্রী।
আমেরিকার ওয়াশিংটন থেকে ক্যানবেরা—অর্থাৎ কোয়াড-এর চেনা সমীকরণকে আরও একটু ঝালিয়ে নিয়ে একটি ‘মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক’ গড়ে তোলার নীল নকশাও তৈরি করাই তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিশেষ আমন্ত্রণে এই সফর হওয়ায়, দুই রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যক্তিগত রসায়ন যে আরও খানিকটা জমে ক্ষীর হবে, সেই আশাতেই এখন বুক বাঁধছে সাউথ ব্লক। এখন দেখার, উদীয়মান সূর্যের দেশ আর ডিজিটাল ইন্ডিয়ার এই চেনা যুগলবন্দি বিশ্বরাজনীতির দাবার বোর্ডে কী নতুন চাল চালতে পারে।














