রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর গ্রাম বাংলার পঞ্চায়েত প্রশাসনে তৈরি হয়েছে গুরুতর অচলাবস্থা। তৃণমূল কংগ্রেসের অনেক পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধান ক্ষমতা হারানোর পর থেকে এলাকাছাড়া, কেউ কেউ আবার বাড়িতে থাকলেও দফতরমুখো হচ্ছেন না। এর জেরে থমকে গিয়েছে গ্রামোন্নয়নের কাজ, চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
এই পরিস্থিতি নিয়ে এবার প্রকাশ্যে কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি জানিয়ে দেন, যাঁরা ভালো মানুষের মতো ফিরে না এসে কাজ করবেন না, তাঁদের ওপর ডিমের বদলে ইট ছোড়া হবে। মন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, পঞ্চায়েত প্রতিনিধি হিসেবে বেতন নিয়েও যাঁরা পরিষেবা দিচ্ছেন না, তাঁদের হয় কাজে যোগ দিতে হবে, নয়তো পদত্যাগ করতে হবে।
মন্ত্রী নিজেই স্বীকার করে নিয়েছেন সমস্যার ব্যাপকতা। তাঁর হিসেবে প্রায় দু’হাজার পঞ্চায়েত প্রধান নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন বা পালিয়ে গিয়েছেন, ফলে অফিসে না আসায় সরকারি প্রকল্পের কাজ মার খাচ্ছে । এর প্রভাব পড়ছে সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে— সার্টিফিকেট পাওয়া যাচ্ছে না, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পেমেন্ট, আটকে যাচ্ছে টেন্ডার প্রক্রিয়া, আবাস ও সড়ক যোজনার মতো প্রকল্পও থমকে রয়েছে।
মন্ত্রী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন, ভোটে জিতে যাঁরা এসেছেন, তাঁরা যেন কাজে ফিরে আসেন। কিছু মানুষ টিটকিরি দিলেও ভয় না পেয়ে দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এরপরই আসে কঠোরতম হুঁশিয়ারি— প্রয়োজনে পুলিশ পাঠিয়ে বাড়ি থেকে তুলে আনা হবে, এলাকাবাসীকে দিয়ে বাড়ি ঘেরাও করানো হবে বলেও জানিয়ে দেন তিনি।
শুধু হুঁশিয়ারিই নয়, বিকল্প ব্যবস্থার ইঙ্গিতও দিয়েছেন মন্ত্রী। উত্তরবঙ্গের এক প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি জানান, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা কাজে না এলে তাঁদের বাদ দিয়েই উন্নয়নের বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টা চলছে, এমনকি প্রয়োজনে প্রশাসক বসানোর রাস্তাও খোলা রয়েছে।















