ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী পালনে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। দেশজুড়ে বছরভর নানা মাত্রায় এই কর্মসূচি পালন করবে বিজেপি। এই জাতীয় উদযাপনের অন্যতম প্রধান অঙ্গ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই বিশেষ আবহে আজ সোমবার অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও ঝটিকা সফরে কলকাতায় আসছেন দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই রাজ্যে প্রথমবার ৬ জুলাই দিনটিকে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা এই জন্মবার্ষিকী উদযাপনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সোমবার বিকেলে বিমানবন্দরে পা রেখেই নিজের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি শুরু করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর এই সফরের ব্যাপ্তি মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টা হলেও, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী স্থান থেকে শুরু করে অনেক জায়গায় থাকবে তাঁর উপস্থিতি। ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মতিথি। সেই উপলক্ষে নিউটাউনের ইকো পার্কেই বসতে চলেছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ ফুটের সুবিশাল মূর্তি। বাজেট পেশের সময় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে ১২৫ ফুট মূর্তি স্থাপন করা হবে এবং তাঁর পৈত্রিক বাড়ি সংস্কারও করা হবে। সেজন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দও করা হয়েছে।
সোমবার, ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিনে শহরে আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপি সূত্রে খবর, শ্যামাপ্রসাদের মূর্তির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কলকাতার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নিউটাউনের ৪৮০ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত ইকোপার্ক। এবার এই পার্কের বুকেই মাথা তুলে দাঁড়াবে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের এক প্রস্তাবিত ১২৫ ফুট উঁচু সুবিশাল মূর্তি। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এই নতুন মেলবন্ধন তৈরি হচ্ছে।
এই ভাস্কর্য নির্মাণের খবর ইতিমধ্যেই পর্যটক এবং অনুগামীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে। পার্কের ভিতরে এই বিশাল মূর্তি স্থাপনের প্রস্তুতি ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও মাঠ পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে সামগ্রিক পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে রাজপথের নিরাপত্তাসহ স্থানটি পরিদর্শন করেন রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার। শনিবার এই পরিদর্শনে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হিডকো বা হাউজিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের এবং পূর্ত দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। নির্দিষ্ট কোন স্থানে মূর্তিটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হবে এবং তার চারপাশে সুরক্ষার বলয় কেমন থাকবে, তা বিশদে পর্যালোচনা করা হয়েছে। পার্কের ভিতর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।














