ভারতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর ১২.৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর মার্কিন প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে ভারত। জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে তৈরি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে নয়াদিল্লি ব্যর্থ হয়েছে— আমেরিকার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে ভারত। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট কোনও উদ্বেগ থাকলে তা মেটাতে ‘অফিস অফ দ্য ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ’ (ইউএসটিআর)-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসতেও রাজি হয়েছে নয়াদিল্লি।
ইউএসটিআর-এর ‘সেকশন ৩০১’ তদন্ত রিপোর্টের জবাবে ভারত জানিয়েছে যে, মার্কিন নিয়ামক সংস্থাটি এমন কোনও সুনির্দিষ্ট কাজ, নীতি বা অনুশীলন চিহ্নিত বা প্রমাণ করতে পারেনি যা আইন অনুযায়ী ‘অযৌক্তিক’ বলে গণ্য হতে পারে। চলতি বছরের ১১ ও ১২ মার্চ ইউএসটিআর জোরপূর্বক শ্রম এবং অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন ক্ষমতা সংক্রান্ত উদ্বেগের জেরে ৬০টি দেশের অর্থনীতি নিয়ে দুটি পৃথক ‘সেকশন ৩০১’ তদন্ত শুরু করেছিল। গত ৩ জুন জোরপূর্বক শ্রম সংক্রান্ত তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ করে তারা ৫৪টি দেশের ওপর নতুন শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব দেয়। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, ভারত, চিন এবং আরও ৪৬টি দেশকে ১২.৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের মুখোমুখি হতে হবে।
অন্যদিকে কানাডা, ইকুয়েডর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো এবং পাকিস্তানকে ১০ শতাংশ শুল্কের আওতায় রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে এই প্রস্তাবটি এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। গত ৬ জুলাই ইউএসটিআর-এর কাছে জমা দেওয়া এক বিবৃতিতে ভারত জানিয়েছে, ‘আমেরিকার করা দাবিগুলির সত্যতা, তথ্যের ঘাটতি এবং পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবের কথা মাথায় রেখে ভারতের বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত এই শুল্ক আরোপের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হোক। যে কোনও সুনির্দিষ্ট উদ্বেগের বিষয়ে ভারত আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে ইউএসটিআর-এর সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে প্রস্তুত’। নয়াদিল্লি আরও যুক্তি দিয়েছে যে, জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা না থাকলে তা কীভাবে বাজারের পরিস্থিতিকে নষ্ট করে বা আমেরিকার অন্যান্য নিয়ম মেনে চলা সংস্থাগুলির ক্ষতি করে, তার কোনও উপযুক্ত প্রমাণ ইউএসটিআর দিতে পারেনি।
ভারতের বক্তব্য, শুধুমাত্র জোরপূর্বক শ্রমের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা না থাকাকে ‘সেকশন ৩০১’ আইনের অধীনে ‘অযৌক্তিক’ বলে ধরে নেওয়া যায় না। ভারত আরও অভিযোগ করেছে যে, ইউএসটিআর প্রতিটি দেশের নিজস্ব আইন এবং তা কার্যকর করার ব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন না করেই ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে একতরফা ও ঢালাও সিদ্ধান্ত জারি করেছে। বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ‘ভারতের ক্ষেত্রে এমন কোনও পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই যে জোরপূর্বক শ্রম আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা না থাকার ফলে মার্কিন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বা ভারত কোনও অন্যায় বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে। আমেরিকায় ভারতের প্রধান রফতানি পণ্যগুলির ক্ষেত্রে জোরপূর্বক শ্রমের কোনও যোগসূত্র থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি’।














