কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বাজার কাঁপিয়ে দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত জীবন বীমা নিগম(এলআইসি)-এর ৩১,৫০০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রির ঐতিহাসিক প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত নিখুঁত ও চরম গোপনীয়তার সঙ্গে সম্পন্ন করল ভারত সরকার। শেয়ার বাজারের শেয়ার দর বা বাজারের ওপর যাতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেই কারণে পুরো পরিকল্পনাটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গোপন রাখা হয়েছিল।
এমনকী সরকারকে পরামর্শ দেওয়া বিনিয়োগকারী ব্যাঙ্কগুলোর প্রতিনিধিরাও লেনদেন শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে পর্যন্ত বিষয়টি জানতে পারেননি। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড পাবলিক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট(দীপাম)’-এর শীর্ষ আধিকারিকরা বাজার খোলার আগে পর্যন্ত এই খবর সম্পূর্ণ গোপন রাখেন। শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা আগেই জানা গেলে ফটকাবাজ বা ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ যোগানের খবর পেয়ে অফার চালু হওয়ার আগেই এলআইসি-র শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারত, এই আশঙ্কা থেকেই এমন কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছিল।
এমনকি সোমবার লেনদেনের জন্য নিযুক্ত চারটি বিনিয়োগকারী ব্যাঙ্কের মধ্যে একটিকে জরুরি ভিত্তিতে দীপামের অফিসে ডেকে নিয়ে শেয়ার বিক্রির আইনি নথি প্রস্তুত করতে বলা হয়। কৌশলগত কারণে সরকার মূলত দুটি সিদ্ধান্ত নেয়—প্রথমত, এলআইসি-র ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফল প্রকাশের আগেই শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং দ্বিতীয়ত, প্রাথমিক পর্বে মাত্র ২.৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়। সরকারের এই আকস্মিক ও সুচতুর কৌশলের ফলে শেয়ার বাজারে ব্যাপক সাফল্য পাওয়া গেছে।
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জোরালো চাহিদার (৩.৩২ গুণ আবেদন) ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ শেয়ার বিক্রির ‘গ্রিন শু’ বিকল্প ব্যবহার করা হয়, যার ফলে মোট ৬.৫ শতাংশ শেয়ার সফলভাবে বিক্রি করা সম্ভব হয়েছে। খুচরো বিনিয়োগকারীদের অংশসহ সামগ্রিকভাবে এই অফার ফর সেল (ওএফএস) ১.২ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছে, যা থেকে সরকারের তহবিলে প্রায় ৩১,৫০০ কোটি টাকা জমা হলো। পাশাপাশি এই বিক্রির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘সেবি'(এসইবিআই)-র নির্দেশিত ১০ শতাংশ ন্যূনতম পাবলিক শেয়ারহোল্ডিংয়ের আইনি শর্তও সময়সীমার অনেক আগেই পূর্ণ করে ফেলল এলআইসি।














