শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ শুরু হওয়ার ঠিক মুখে দাঁড়িয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারের চোটাঘাতের কারণে বিসিসিআই-এর ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ (সিওই)-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরিস্থিতিতে বেঙ্গালুরুর এই উৎকর্ষ কেন্দ্রের প্রধান এবং ভারতের প্রাক্তন ব্যাটার ভিভিএস লক্ষ্মণ প্রতিষ্ঠানের তীব্র সমালোচনা খারিজ করে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সিওই-কে কেবল ‘রিহ্যাব’ বা পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসেবে দেখলে ভুল হবে।
রবিবার বেঙ্গালুরুতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে লক্ষ্মণ স্পষ্ট করে দেন যে, পেশাদার ক্রিকেটারদের দীর্ঘ কেরিয়ারে চোট পাওয়া একটি অনিবার্য ও স্বাভাবিক ঘটনা। তাই কাউকে বলির পাঁঠা করার বা একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপানোর বদলে চোট মনিটরিং ও সুরক্ষার ব্যবস্থা উন্নত করার ওপর জোর দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘সিওই কেবল চোট সারানোর কেন্দ্র নয়, খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে উৎকর্ষ অর্জনে সাহায্য করাই এর মূল লক্ষ্য।’
তবে জসপ্রীত বুমরা, সাই সুদর্শন, হর্ষিত রানা, নীতিশ কুমার রেড্ডি এবং ওয়াশিংটন সুন্দরের মতো প্রথম সারির একঝাঁক ক্রিকেটারের চোটাঘাত এবং তাঁদের সুস্থ হয়ে ওঠার অনিশ্চিত সময়সীমা নিয়ে জাতীয় নির্বাচক কমিটি ও সিওই-র চিকিৎসা দলের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব প্রকাশ পেয়েছে। ফাস্ট বোলার হর্ষিত রানা দীর্ঘ চার মাস চোটের জন্য মাঠের বাইরে থাকার পর ফিরলেও আবার হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যায় পড়েছেন। শ্রীলঙ্কা সফরের দল নির্বাচনের সময় বুমরা ও সুদর্শনকে রাখা হলেও ফিটনেস পরীক্ষায় ছাড়পত্র না মেলায় শেষ পর্যন্ত বাদ পড়তে হয়েছে তাঁদের। অলরাউন্ডার নীতিশ কুমার রেড্ডি বোলিংয়ের গতি বাড়াতে গিয়ে অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে মাংসপেশির চোটে ভুগছেন।
এই একের পর এক চোট এবং সঠিক সময়ে খেলোয়াড়দের মাঠে ফেরানো নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় স্বয়ং বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া নিজেই বেঙ্গালুরুর সেন্টারে গিয়ে ভিভিএস লক্ষ্মণের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসতে চলেছেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের প্রথম দিকে নীতিশ পটেল পদত্যাগ করার পর থেকে স্পোর্টস সায়েন্স বা ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের প্রধানের পদটি এখনও খালি রয়েছে এবং আপাতত ধনঞ্জয় কৌশিক অস্থায়ীভাবে এই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এর ফলে প্রধান খেলোয়াড়দের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া, তাঁদের ম্যাচ খেলার ফিটনেস মূল্যায়ন এবং নির্বাচকদের সাথে তথ্যের সঠিক আদান-প্রদান নিয়ে বিসিসিআই-এর অন্দরেই ক্ষোভ ও অস্বস্তি বৃদ্ধি পেয়েছে।















