২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের উপরে প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলের ১৫০০ টাকা লক্ষীর ভান্ডার বাড়িয়ে অন্নপূর্ণা যোজনায় মহিলাদের জন্য ৩০০০ টাকা করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এবারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলের কন্যাশ্রী প্রকল্পে স্কুল ছাত্রীরা প্রতিমাসে যে এক হাজার টাকা করে ভাতা পেতো তা দ্বিগুণ করে দিয়ে কন্যারত্ন প্রকল্পে ২০০০ টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে কন্যা-রত্ন দিবস পালন করে রাজ্য সরকার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, মন্ত্রী মালতী রাভা রায়-সহ বিশিষ্টরা। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘বিদ্যাসাগর মহাশয়ের ভাবনায় নারী শিক্ষার প্রসার, নারী শিক্ষার ক্ষমতায়নে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। আমাদের ৮ মাসের বাজেট কর্ম সংস্থানের ক্ষেত্রে মহিলাদের অগ্রাধিকার দেওয়া থেকে শুরু করে, নারী শিক্ষা, মহিলা কলেজ, উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়,মহাবিদ্যালয়, কোনও ছাত্রী যাতে মাঝপথে পড়াশোনা না ছেড়ে যেতে পারেন, তার জন্য সমস্ত আর্থিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’ বর্তমানে কন্যারা পড়াশোনার জন্য যে ১,০০০ টাকা করে আর্থিক অনুদান পাচ্ছেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে তা বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করা হবে। অর্থাৎ আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে কন্যাদের জন্য স্কলারশিপের পরিমাণ দ্বিগুণ করছে রাজ্য সরকার। কন্যাদের উচ্চশিক্ষায় আর্থিক বাধা দূর করতেও একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষা যাতে মাঝপথে বন্ধ না হয়ে যায়, তার জন্য ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। শুধু রাজ্যের মধ্যে উচ্চশিক্ষা নয়, জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় সাফল্য পাওয়া এবং বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া পড়ুয়াদের জন্যও নতুন তহবিল তৈরি করা হয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দের নামে ১০০ কোটি টাকার পৃথক তহবিল গড়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। ডাক্তারি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা বা বিশেষ শিক্ষার সুযোগ পাওয়া পড়ুয়ারা এই তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা পাবেন। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী জানান, ৬০ শতাংশের বেশি নম্বর পাওয়া পড়ুয়াদের জন্য বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ যোজনা চালু থাকবে।
তাঁর বক্তব্য, অর্থ যাতে কোনও মেধাবী পড়ুয়ার উচ্চশিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেই লক্ষ্যেই একাধিক আর্থিক সহায়তা চালু রাখা হয়েছে। এদিন কন্যারত্নদের আর্থিক সহায়তা নিয়েও তথ্য দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি বছরে প্রায় ২০ লক্ষ ১৩ হাজার ছাত্রী আর্থিক সহায়তা পাবেন। বিদ্যালয়গুলির যাচাইয়ের ভিত্তিতে ১০ লক্ষ ১৩ হাজার ছাত্রীর জন্য অর্থ হস্তান্তর শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির জন্য প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিদ্যাসাগরের নারীশিক্ষার ভাবনা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী সুরক্ষার আদর্শকে সামনে রেখে রাজ্য সরকার কাজ করছে। কর্মসংস্থান, শিক্ষা এবং উচ্চশিক্ষায় মহিলাদের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি কোনও ছাত্রী যাতে আর্থিক কারণে পড়াশোনা ছেড়ে না দেন, সেই লক্ষ্যেই সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। কন্যারত্ন দিবস উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্রের ‘বেটি বচাও, বেটি পড়াও’ কর্মসূচির সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী।
পাশাপাশি ‘পালনা’ প্রকল্প এবং মহিলাদের জন্য ১৮১ হেল্পলাইন চালুর কথাও জানান তিনি। শিক্ষা, সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগগুলিকে একসঙ্গে কার্যকর করার কথা জানিয়েছেন তিনি। তিনি জানালেন, ছাত্রীদের জন্য কন্যারত্ন স্কলারশিপ দেওয়া হচ্ছে। অর্থনৈতিক গ্র্যান্ট দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ৬০ শতাংশের বেশি নম্বর যাঁরা পাচ্ছেন, তাঁদের জন্য বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ যোজনায় বিশেষ অর্থনৈতিক সহয়তা স্কিম চালু রাখা হচ্ছে। বিদেশে পড়াশোনা করতে যাওয়া ছাত্রছাত্রী বা জাতীয় স্তরে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চশিক্ষায় যাওয়া পড়ুয়াদের জন্য আলাদা তহবিল গড়া হয়েছে। এই তহবিল গড়া হচ্ছে স্বামী বিবেকানন্দের নামে।














