অভয়া-কাণ্ডের পুনর্তদন্তে এ বার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার খড়দহ থানায় গিয়ে তদন্তকারীদের কাছে গোপন জবানবন্দি দিলেন অভয়ার বাবা। মূলত মৃত্যুর রাতে শ্মশানঘাটে কী ঘটেছিল, সেই বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নথিবদ্ধ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
একই সঙ্গে নির্মল ঘোষের গ্রেপ্তারির পর অভয়ার বাবা-মায়ের নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্তও হয়েছে। অভয়ার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতেই নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে-কে ঘিরে তদন্ত শুরু হয়েছে। ৯ আগস্ট অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুনর্তদন্তের নির্দেশ দেন। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় সেই রাতের শ্মশানঘাটের ঘটনাক্রমকে। বারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়। এর পরেই তদন্তে গতি আসে।
অভয়ার অভিযোগ দায়েরের দু’দিনের মধ্যে ওড়িশা থেকে গ্রেপ্তার হন নির্মল। পুলিশের দাবি, বালেশ্বরের সিমুলিয়া থানা এলাকার একটি হোটেলে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি। তদন্তকারীদের নজর এড়াতে পুরনো মোবাইল নম্বর বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু মোবাইলের টাওয়ারের তথ্য ধরে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা হয়। ওড়িশা পুলিশের সহায়তায় হোটেল থেকে তাঁকে আটক করে রাজ্য পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে ট্রানজিট রিমান্ডে খড়দহে আনা হয় তাঁকে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে অভয়ার প্রতিবেশী সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ও গ্রেপ্তার হন। শুক্রবার নির্মল ও সঞ্জয়কে বারাকপুর মহকুমা আদালতে হাজির করা হয়। নির্মলের গ্রেপ্তারিকে ঘিরে খড়দহ থানার বাইরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাঁকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার আগে পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার করে।
সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় মাথায় হেলমেট পরানো হয়েছিল। কিন্তু থানার বাইরে জমায়েত থেকে ডিম ও জুতোর মালা ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তারও অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই অভয়ার বাবার গোপন জবানবন্দি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ পুনর্তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সেই রাতের ঘটনাই—শ্মশানঘাটে কারা ছিলেন, কী ঘটেছিল এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ কী ভাবে এগিয়েছিল, তার উত্তর খুঁজতেই তদন্তকারীরা এখন প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য মিলিয়ে দেখছেন। অন্যদিকে, নির্মল ও সঞ্জয়ের গ্রেপ্তারিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভয়ার মা। সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি। তবে গ্রেপ্তারি তদন্তের শেষ নয়। শ্মশানঘাটের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্য সামনে আসে কি না, এখন নজর সেদিকেই।














