এই ঘটনার সার্বিক তদন্তের জন্য অবিলম্বে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। সত্য উদঘাটন করতে এবং ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’ মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সেই সঙ্গে পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করে তিনি বলেন, ‘পূর্ববর্তী প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে এই সব বিষয় এড়িয়ে গিয়েছে। তারা ন্যূনতম সুরক্ষাবিধি অডিট করতে এবং তা কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে। যার ফলেই আজ এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমরা এখন সেই জমানার ক্ষতি মেরামত করতে এবং যে সুরক্ষা মানদণ্ডগুলি প্রথম থেকেই থাকা উচিত ছিল, সেগুলি কড়াভাবে কার্যকর করতে নিরলসভাবে কাজ করছি।’ প্রশাসনিক নজরদারির অভাব ও অডিটের ব্যর্থতাকে কাঠগড়ায় তুলে মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, আগে নিয়মকানুন শিকেয় তুলে রাখা হয়েছিল।
শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির পাশে থাকার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি আহতদের যাতে দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়, সে ব্যাপারে প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি লেখেন, ‘এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল। আহতরা যাতে সর্বোত্তম চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পান, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছি।’ অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে অবিলম্বে রিপোর্ট জমা দিতে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের সিট গঠন করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার দায় নিয়ে সরব হয়ে পূর্ববর্তী রাজ্য প্রশাসনের নীতিহীনতাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, শহরের বুকে একের পর এক বিপজ্জনক নির্মাণ ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উদাসীনতা। তিনি লেখেন, ‘এই ট্র্যাজেডি বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দীর্ঘদিনের অবহেলার এক নির্মম নিদর্শন। বছরের পর বছর ধরে শহরের ও রাজ্যের পরিকাঠামো অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে দেওয়া হয়েছে। বাধ্যতামূলক অগ্নিনির্বাপণ সুরক্ষা বিধি সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করেই বহুতল নির্মাণ, হোটেল এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।’














