Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি অগ্নিমিত্রার

কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি অগ্নিমিত্রার

খুব বেশি দিন আগের কথা নয় মাত্র এক বছর আগেই কলকাতার তৎকালীন মেয়র তথা রাজ্যের তৎকালীন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম নির্দেশ দিয়েছিলেন কলকাতার সমস্ত গেস্ট হাউস এবং হোটেল ফায়ার অডিট করার জন্য। বড়বাজারের মেছুয়া ফলপট্টিতে হোটেল ঋতুরাজে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পরেই এমন নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু কোন অজ্ঞাত কারণে মাত্র ২০টি হোটেলে অডিটের পরেই বন্ধ হয়ে যায় সেই অডিট পর্ব। বুধবার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে আগুন লেগে ৯ জনের মৃত্যুর পর স্বাভাবিকভাবেই তাই ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল উঠতে শুরু করেছে। প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দাবি জোড়াসাঁকো হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর স্থির হয়েছিল শহরের সবকাটি হোটেলে অগ্নি নির্বাপন অডিট চালানো হবে। কিন্তু সেই পরিমাণ লোক ছিল না দমকল দফতরের।

 

স্বাভাবিকভাবেই থার্ড পাটির উপরে নির্ভর করতে হয়েছিল দমকল দফতরকে। কিন্তু দমকল দফতর সূত্রে খবর, সেই অডিট সম্পূর্ণ হতে পারেনি। কলকাতা পুরসভায় তিন দফায় বৈঠক হয়েছিল। ছাদের উপরে রেস্তোরাঁ এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কী অবস্থায় রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে হাতে গোনা ১৫ থেকে ২০টি হোটেল অডিট হয়। কলকাতা পুরসভা এবং দমকল দফতর সূত্রে খবর, গোটা কলকাতায় বড় অভিজাত হোটেল ছাড়াও ৩৭৮৮ হোটেলকে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যেগুলোতে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ভাল করে খতিয়ে দেখা হবে। ফিরহাদ হাকিম বলছেন, ‘দমকলের কাছে লোক ছিল না বলে থার্ড পার্টি অডিট টিম তৈরি করার কথা বলেছিলাম। নজরদারি তো পৌরসভা করে না। নজরদারি তো দমকলের দেখার কথা। ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছিল কিনা, আমি কীভাবে বলব?

 

 

এলাকা পরিদর্শনে এসে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলছেন, ‘তিন-চার তলার বিল্ডিং। ১০টা গেস্ট হাউস চালানো হচ্ছিল। সেখানে ৬ জন পুরুষ ২ জন মহিলা ও একটি বাচ্চার মৃত্যু হয়েছে। ৮০ জনকে বাঁচানো গিয়েছে। আজকে পুলিশ ও দমকল দারুণ কাজ করছে। কিন্তু এই ধরণের হোটেল যাঁরা চালাচ্ছে, তাঁরা কীভাবে চালাচ্ছে। ট্রেড লাইসেন্স কীভাবে পেল? আমি সিইএসসি-কে দায়ী করব। কীভাবে তারা অনুমতি দিল?’ তিনি আরও বলেন, ‘এই এলাকাতে প্রচুর এমন হোটেল আছে। যাঁরা অনৈতিকভাবে ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছে। একটা এসি চালানোর কথা, দশটা এসি চালাচ্ছে। সিইএসসি কীভাবে অনুমতি দিল? ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে ও ৮০ জনকে বের করা হয়েছে রাত দুটোর পর। আমাদের ১০০ দিন হয়েছে। আমরা টিম গঠন করছি। কেএমসি ও প্যান বাংলায় যে হোটেলগুলো অবৈধভাবে চলছে, তা বন্ধ করে দিন, নইলে আমরা বন্ধ করে দেব, এটা বলে দিলাম। আমরা ২৭টি বিল্ডিং ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করেছি। সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

কলকাতা সহ রাজ্যের সর্বত্র এমন বেআইনি হোটেল তৃণমূল সরকারের আমলে গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ তুলে তৃণমূল সরকারের ওপরও ক্ষোভ উগরে দিয়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে কোনও অডিট হয়নি। মাননীয় মুখ্যন্ত্রীর সঙ্গে কথা হবে। আমরা কেএমসি, দমকল, পুলিশ, পিডব্লিউডি যাঁরা যাঁরা আছেন, সবাইকে নিয়ে একটা দল গঠন করে এই চত্ত্বরের মধ্যে যাঁরা এই ধরণের হোটেল চালাচ্ছে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁরা শুধুই কি বাংলাদেশি, না কি এখানকার, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়। পুলিশ দেখছে বিষয়টা। এরপরই জানা যাবে। পূর্বতন সরকার কী করেছেন? আমার জায়গায় যিনি ছিলেন তিনি কী করেছেন? তিনি তো মেয়রও ছিলেন। কীভাবে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হল? পেছনে যে এক্সিটের জায়গা ছিল, সেখানেও একটা অবৈধ বিল্ডিং গড়ে তোলা হয়েছে।’

READ MORE.....