কৈলাশ মিশ্রকে বিপুলভাবে জয়ী করুন, বালির ‘রাশ’ আমার হাতে থাকবে— আহ্বান অভিষেকের। এমনকি, ডায়মন্ড হারবারের মতো বালিতেও হবে উন্নয়ন। ৬ মাসের মধ্যে বালিতে পুরভোট করানো হবে জানালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। হাওড়া সদর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের ডাকে বালি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী কৈলাশ মিশ্রের সমর্থনে শনিবার বিকেলে বালি এ.সি. মাঠে এক জনসভায় ওই মন্তব্য করেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘বালির এই মাঠে সভা মানেই বালি কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের জয় অনিবার্য।
বালিতে নিকাশির সমস্যা রয়েছে সেটা শুনেছি। রাস্তাঘাটের কিছু সমস্যা রয়েছে। আমার সামর্থ্য অনুযায়ী যতটা করার রাস্তাগুলোর কাজ শুরু করে দিয়েছি। আগামী দিনে তৈরি করার দায়িত্ব আমার। আমি কথা দিয়ে গেলাম। আমি যেভাবে আমার লোকসভা কেন্দ্রে উন্নয়নের জোয়ার এনেছি, যেভাবে সমস্যার সমাধান করেছি বালিও এর ব্যতিক্রম হবে না— আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি। এই নির্বাচন শুধু বিজেপিকে হারানোর নির্বাচন নয়। নির্বাচনে জেতা তৃণমূল কংগ্রেসের লক্ষ্য নয়। নির্বাচনে জিতে নিরবিচ্ছিন্নভাবে উন্নয়ন করাই তৃণমূলের লক্ষ্য। বিজেপির যে প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যান করেছেন মধ্য হাওড়ার মানুষ, তাঁকে আবার বালিতে প্রার্থী করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। উনি একবার হাওড়া মধ্য বিধানসভা কেন্দ্রে হেরেছেন, এবার বালিতেও হারবেন।
আমি বালির সার্বিক দায়িত্ব দায়ভার নিয়ে যাচ্ছি— কথা দিয়ে গেলাম। পাঁচ বছর ধরে যারা আমাদের প্রাপ্য টাকা আটকে রেখেছে, এবারের নির্বাচন তাদের যোগ্য জবাব দেওয়ার নির্বাচন। আমরা যে রিপোর্ট কার্ড বালির জন্য দিয়েছি, ওরা তার পাঁচ শতাংশ কাজও যদি করে থাকে তাহলে আমি ভোট চাইতে বালিতে আসব না। বিধানসভা ভোটের ছয় মাসের মধ্যে বালি পুরসভার নির্বাচন হবে। বালিতে কৈলাশকে বিপুলভাবে জয়ী করুন, বালির রাশ আমার হাতে থাকবে। যারা বাঙালিদের অপমানিত করেছে, মনীষীদের অপমানিত করেছে, বাংলার মানুষ তাদের এবার উপযুক্ত জবাব দেবে।’
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে অভিষেক বলেন, ‘শুধু ভোটের সময় এখানে এলে হবে না, সারা বছর আসতে হবে।
শুধু ভোটের সময় এসে ঝালমুড়ি খেলে হবে না। বাংলায় ১ কোটি ১২ লক্ষ কর্মসংস্থান এমএসএমই-র ক্ষেত্রে তৃণমূল সরকার তৈরি করেছে। যদি আমি মিথ্যে কথা বলে থাকি মামলা করে আমাকে জেলে ঢোকান। এটা আমার পাড়া, আমার মাটি। আর তুমি গুজরাট থেকে এসে আমাকে ধমকাবে-চমকাবে? এসআইআর-এর লাইনে দাঁড় করিয়ে যেভাবে মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে, নোটবন্দির নাম করে যেভাবে লাইনে দাঁড় করিয়ে মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে, আগামী ২৯ তারিখ আপনাদের ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েই এর যোগ্য জবাব দিতে হবে।
যেদিন মানুষ চাইবে না, সেদিন ওদের দম্ভ-অহংকার চূর্ণ হতে পাঁচ মিনিটও সময় লাগবে না। মানুষের ক্ষমতার কাছে কারও ক্ষমতা টেকে না।’ অভিষেক আরও বলেন, ‘চার তারিখ ভোটবাক্স খুলবে আর পদ্মফুল সব সরষে ফুল দেখবে। ওরা সব ভোকাট্টা হবে। কৈলাশকে ২৫,০০০-এর বেশি ভোটে জেতাতে হবে। আগে যা ছিল বাম এখন হয়েছে রাম। নতুন বোতলে পুরনো মদ। প্রথম দফায় ভোটে সেঞ্চুরি পার হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় ডবল সেঞ্চুরিও পার করতে হবে। যারা মা দুর্গার বংশপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলে, ধর্ম নিয়ে তাদের রাজনীতি করার কোনও অধিকার নেই।
’ এদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, যুবসাথী সহ বিভিন্ন প্রকল্পে বালির রিপোর্ট কার্ড তুলে ধরেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘যদি ১৬টা বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা প্রত্যেক বাড়িতে মায়েদের জন্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডার করে দেখাতে পারেন, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। বিজেপির গ্যারান্টি মানে নো ওয়ারেন্টি। ওরা বাংলা কথা বলতে পারে না, বাংলা লিখতে পারে না, বাংলা পড়তে পারে না। জ্ঞানেশ কুমারকে চ্যালেঞ্জ করছি, যে ৯০ লক্ষ নাম বাদ গেছে তার মধ্যে ৯ জন বাংলাদেশি রোহিঙ্গা দেখাতে পারবেন না। এর জবাব বাংলার মানুষ দেবে ৪ তারিখ। যদি বাংলার প্রতি কারও এতটুকু আনুগত্য বা মাটির প্রতি ভালবাসা থাকে তাহলে বিজেপিকে যোগ্য জবাব দিতে হবে।
এদের ‘বলো হরি, হরি বোল, বাংলা বিরোধীদের খাটে তোল’ বলে বিদায় দিতে হবে।’ এদিনের সভায় বালি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী কৈলাশ মিশ্র ছাড়াও দক্ষিণ হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী নন্দিতা চৌধুরী, হাওড়ার সাংসদ প্রসূন ব্যানার্জি সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, এর পাশাপাশি এদিন সন্ধ্যায় হাওড়া সদর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের ডাকে উত্তর হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী গৌতম চৌধুরীর সমর্থনে শনিবার সালকিয়া বাবুডাঙ্গা মোড় থেকে পিলখানা মোড় পর্যন্ত এক রোড শো-র আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।













